দুর্বল শাসন কাঠামোই বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের কারণ: অজিত দোভাল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫৫ এএম
দুর্বল শাসন কাঠামোই বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল। তিনি বলেন, প্রশাসনিক দুর্বলতা অনেক সময় একটি দেশের সরকারের পতনের পথ তৈরি করে দেয়। দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে— বিশেষ করে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায়— অনানুষ্ঠানিক উপায়ে সরকার পরিবর্তনের পেছনেও এমন দুর্বল শাসনব্যবস্থা ভূমিকা রেখেছে।
শনিবার (১ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
শুক্রবার রাষ্ট্রীয় ঐক্য দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে দোভাল বলেন, রাষ্ট্র গঠন ও নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু রাষ্ট্রকে তার লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করে না, বরং সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণেও সহায়ক হয়।
তিনি আরও বলেন, আজকের প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাধারণ মানুষকে সন্তুষ্ট রাখা। এখন মানুষ অনেক বেশি সচেতন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকে আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রত্যাশা রাখে। তাই রাষ্ট্রেরও নাগরিকের সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হয়।
দোভালের মতে, একটি জাতির শক্তি নিহিত থাকে তার শাসন ব্যবস্থায়। সরকার যখন প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কাজ করে, তখন জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সেই ব্যক্তিরা, যারা এসব প্রতিষ্ঠান তৈরি ও লালন করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসন মডেলের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ভারত এখন নতুন এক কক্ষপথে প্রবেশ করছে— নতুন শাসনব্যবস্থা, সমাজ কাঠামো ও বৈশ্বিক অবস্থানে। দুর্নীতি দমনে বর্তমান সরকার যে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন এনেছে, তা ইতিমধ্যে গভীর প্রভাব ফেলছে। সামনে আরও সংস্কারমূলক পদক্ষেপ আসবে।
পরিবর্তনের সময়ে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব তুলে ধরে দোভাল বলেন, যখন পরিবর্তন আসে, তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লক্ষ্য পরিষ্কার রাখা। ঝড়-ঝাপটার মাঝেও যেন চোখ না বন্ধ হয়, ভয় বা বিভ্রান্তিতে যেন পথ হারানো না হয়।
ভালো শাসনের মূল উপাদান হিসেবে তিনি নারীর সুরক্ষা, সমতা ও ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। দোভালের ভাষায়, নারীর ক্ষমতায়ন আধুনিক শাসনব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। শুধু ভালো আইন বা কাঠামো থাকলেই হবে না, এগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করাটাই সবচেয়ে জরুরি।
প্রযুক্তির ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের এমন প্রযুক্তি কাজে লাগাতে হবে যা শাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসেবার দক্ষতা বাড়ায়। তবে একইসঙ্গে সাইবার হামলার মতো প্রযুক্তিনির্ভর হুমকি থেকেও সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।



