ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কনীতি বাতিলের দাবিতে সিনেটে রেজোল্যুশন পাস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫১ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কনীতি বাতিলের দাবিতে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে একটি রেজোল্যুশন পাস হয়েছে। বিষয়টি জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সিনেটে রেজোল্যুশনটি ভোটের জন্য তোলা হলে ৫১ জন সিনেটর এর পক্ষে ভোট দেন এবং ৪৭ জন বিরোধিতা করেন। বাকি দুই সিনেটর ভোটদানে বিরত থাকেন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির চারজন সিনেটর ডেমোক্রেটদের সঙ্গে একযোগে রেজোল্যুশনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তারা হলেন— কেন্টাকির র্যান্ড পল ও মিচ ম্যাককোনেল, আলাস্কার লিসা মুরকাওস্কি এবং মেইনের সুসান কলিন্স।
গত ২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের ওপর বর্ধিত রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেন, যাকে তিনি ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা’র অংশ বলে বর্ণনা করেন। তবে তার এই সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই দেশটির বিরোধী দল ও ব্যবসায়ী মহলের সমালোচনার মুখে পড়ে।
শুল্ক আরোপের দুই সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে (কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড) ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, বৈশ্বিক শুল্কনীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন “ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট, ১৯৭৭” (IEEPA) আইনের অপব্যবহার করেছে। আইন অনুযায়ী, কোনো দেশের ওপর শুল্কহার নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের হলেও জরুরি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট তা সাময়িকভাবে পরিবর্তন করতে পারেন।
মামলার শুনানি শেষে ২৯ মে আদালত ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাতিল ঘোষণা করে। তবে এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফেডারেল আপিল আদালত ওই রায় স্থগিত করে অস্থায়ীভাবে ট্রাম্পের শুল্কনীতি পুনর্বহাল করে।
ট্রাম্পের কোনো নীতির বিরুদ্ধে তার নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের ভোট দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিরল ঘটনা। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই প্রথম তার দলের চারজন সিনেটর প্রকাশ্যে তার নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন।
ভোটাভুটির পর ভার্জিনিয়ার ডেমোক্রেট সিনেটর টিম কাইন বলেন, আজকের ভোটে প্রমাণ হয়েছে— ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও অস্বস্তি আছে। আমরা আশা করি প্রেসিডেন্ট এই নীতি বাতিল বা স্থগিতের বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে পুনর্বিবেচনা করবেন।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান



