যুদ্ধবিরতি
ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ৩ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ১০:০৭ এএম
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ৩ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি কারাবন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। সোমবার এই মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় কারাগার দপ্তরের জনসংযোগ বিভাগ।
দু’টি পৃথক ব্যাচে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এই বন্দিদের। প্রথম ব্যাচে ছিলেন প্রায় ২ হাজার বন্দি, যারা পশ্চিম তীরের রাজধানী রামাল্লার পশ্চিমাংশে অবস্থিত ইসরায়েলি কারাগার ‘ওফের’-এ আটক ছিলেন। সোমবার দুপুরে আইসিআরসি (ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেডক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট)-এর সরবরাহ করা বাসে করে তারা পশ্চিম তীরের বেইতুনিয়া শহরে পৌঁছান।
অন্যদিকে, একই সময়ে দক্ষিণ ইসরায়েলের নাগেভ কারাগার থেকে মুক্তি পান দ্বিতীয় ব্যাচের ১ হাজার ৭১৮ ফিলিস্তিনি বন্দি। পরে তারা গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে এসে পৌঁছান। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় কারা দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন।
গাজায় পৌঁছানো সকল বন্দির প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে খান ইউনিসের নাসার মেডিকেল কমপ্লেক্স। পশ্চিম তীরের বেইতুনিয়া ও গাজার খান ইউনিসে মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের স্বাগত জানাতে শত শত ফিলিস্তিনি সমবেত হন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাসের আকস্মিক হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এটি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচিত। পরদিন থেকেই গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী, যেখানে গত দুই বছরে নিহত হয়েছেন ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার।
যুদ্ধ চলাকালীন একাধিকবার অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি স্থাপন সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর একটি নতুন যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা পেশ করা হয়, যা ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই গ্রহণ করে। সেই চুক্তির আওতায় গত শুক্রবার থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
যুদ্ধবিরতির তৃতীয় দিন, সোমবার, হামাস অবশিষ্ট ২০ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেয়। এরই বিনিময়ে ইসরায়েল কারাগার থেকে ৩ হাজার ৭০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। তবে ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো বন্দিকে এই মুক্তির আওতায় আনা হয়নি।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি



