যুদ্ধবিরতির পর গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৫, ১১:১৪ এএম
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে ইসরায়েল। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে সেনা ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার থেকে ইসরায়েল-গাজা সীমান্তের ‘ইয়েলো লাইন’ ক্রসিং দিয়ে সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়। শনিবার পর্যন্ত গাজার মধ্যাঞ্চলীয় শহর গাজা সিটির শেজাইয়া, আল তুফাহ ও জেইতুন এলাকা এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের পূর্ব ও দক্ষিণাংশ থেকে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে গাজার অন্যান্য এলাকা থেকেও সেনা প্রত্যাহার করা হবে।
সেনা প্রত্যাহার শুরুর পর নিজ নিজ বাসভূমিতে ফিরতে শুরু করেছেন গাজার ফিলিস্তিনিরা। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন। দক্ষিণ গাজার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে উত্তরাঞ্চলে ফেরার পথে যানবাহনের সংকট থাকায় অনেকেই পায়ে হেঁটে যাত্রা করছেন।
গাজার সমুদ্রতীরবর্তী আল রশিদ স্ট্রিট ও সালাহ আল দীন রোড দিয়ে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাড়ির পথে ফিরছেন। তবে ইসরায়েলি বাহিনীর গত দুই বছরের অভিযানে গাজার ৯০ শতাংশ ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, আর বাকি ১০ শতাংশ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে যাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে, তারা এখন তাঁবু খাটিয়ে বসবাস করছেন।
গাজার সরকারি মিডিয়া দপ্তর জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় খাদ্য, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মৃতদের উদ্ধার করতে প্রায় ৫ হাজার উদ্ধার মিশন পরিচালনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে গাজায় যুদ্ধবিরতির একটি নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ইসরায়েল ও হামাসের সম্মতির পর ১০ অক্টোবর শুক্রবার গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে প্রবেশ করে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা ও ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এরপর ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এ পর্যন্ত এই অভিযানে গাজায় নিহত হয়েছেন ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি



