হোয়াইট হাউসে শেহবাজ ও আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৫৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির পর এবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এই বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রয়টার্স, দ্য ডন ও জিও নিউজের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে তিনিই প্রথম পাকিস্তানি সেনাপ্রধান হিসেবে হোয়াইট হাউসে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই বৈঠক এমন সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দুই দেশ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।
ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক উষ্ণ হলেও, একই সময়ে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে ভিসা জটিলতা, ভারতের পণ্যে উচ্চ শুল্ক এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতায় ভারত চীনের সঙ্গে নতুন কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই, অর্থনীতি ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, “এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সক্রিয়, এবং পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।”
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ট্রাম্প কখনো কখনো হতাশা প্রকাশ করলেও, সম্পর্ক এখনও দৃঢ়। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের কোয়াড সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা চলছে।”
এদিকে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকার জন্য ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ ইসরায়েলের গাজা, কাতার ও ইরান আক্রমণেরও নিন্দা জানিয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন ট্রাম্প, যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র শান্তির প্রস্তাব শেয়ার করে।



