নেপালে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাজধানীসহ ৩ জেলায় কারফিউ জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন রাজধানী কাঠমান্ডুর গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে অন্যান্য জেলাতেও। জন-উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার কাঠমান্ডু, ললিতপুর এবং ভক্তপুর—এই তিন জেলায় কারফিউ জারি করেছে। জেলা প্রশাসন কার্যালয় পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কারফিউ বহাল থাকবে।
গত বছর নেপালের সুপ্রিম কোর্ট সক্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে সরকারিভাবে নিবন্ধনের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির সরকার ২৮ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষে ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ ২৬টি অ্যাপে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যা ৪ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়।
এই নিষেধাজ্ঞা তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। জেন জি নামে পরিচিত এই তরুণরা ৪ সেপ্টেম্বর থেকেই আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, যা রোববার থেকে রীতিমতো বিক্ষোভে রূপ নেয়। সোমবার রাজধানীজুড়ে কারফিউ অমান্য করে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। আন্দোলনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিষেধাজ্ঞা থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।
কাঠমান্ডুর বাণেশ্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। আন্দোলনের চাপে নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী অলির পদত্যাগের দাবিও জোরালো হচ্ছে।
সোমবার রাতে জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অলি ২৬টি অ্যাপের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন এবং আন্দোলনকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তবে আন্দোলনকারীরা সেই আহ্বানে সাড়া দেবেন কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।



