গাজায় ইসরায়েলি হামলায় একদিনে ৬১ ফিলিস্তিনি নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৩৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলায় একদিনে আরও ৬১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ১৯ জন ছিলেন ত্রাণের খোঁজে যাওয়া সাধারণ মানুষ। এছাড়া অনাহার ও অপুষ্টিতে মৃত্যু হয়েছে আরও চারজনের, যার মধ্যে দুজন শিশু। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬১ জন। চিকিৎসা সূত্র জানায়, নিহতদের মধ্যে ১৯ জনই ছিলেন মানবিক সহায়তার সন্ধানে বের হওয়া সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাজধানী গাজার পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র বোমাবর্ষণ চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনারা গাজা নগরী দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এটি উপত্যকার সবচেয়ে বড় নগরকেন্দ্র। তবে আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, এ অভিযানে ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটবে এবং সেখানে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ অভিযানের নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি যুদ্ধের এক নতুন ও ভয়াবহ ধাপের সূচনা। তিনি সতর্ক করেন, গাজা নগরীতে সেনা অভিযান লাখো বেসামরিক মানুষের জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে, যারা আগেই ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত।
গাজার বাসিন্দাদের দাবি, দলে দলে পরিবার উপকূলের দিকে ছুটছে, আর সেই সময় শুজাইয়া, জায়তুন ও সাবরা এলাকায় তীব্র বোমাবর্ষণ চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, কেবল জায়তুনের দক্ষিণাংশেই ১,৫০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে খাবারের খোঁজে যাওয়া কিছু মানুষ জোরপূর্বক গুম হয়ে গেছেন। তারা বলেছেন, ক্ষুধার্ত মানুষকে গুম করা শুধু বিস্ময়করই নয়, বরং নির্যাতনের শামিল।
এদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার আরও চারজন অনাহার ও অপুষ্টিতে প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন শিশু। চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্ষুধাজনিত কারণে এখন পর্যন্ত ৩১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে ১২১ শিশু।
আল-জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজযুম জানিয়েছেন, গাজায় এখন অত্যন্ত করুণ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। পরিবারগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র গরমে স্যুপের লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরছে। আবার অনেকে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে খাবারের জন্য বিতরণকেন্দ্রে ছুটছেন।



