উত্তর পাকিস্তানে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসে নিহত ২৫০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫, ১১:০৪ এএম
আজাদ কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদের বাইরে পানির স্রোতে ভেঙে পড়া সেতু দেখতে উপস্থিত স্থানীয়দের ভিড়। ছবি: জিও টিভি
উত্তর পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২৫০ জনের বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু বুনের জেলায় নিহত হয়েছেন ২১৩ জনের বেশি। এছাড়া বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রাদেশিক ও উদ্ধার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ২০০ জন, বালতিস্তানে ১২ জন এবং আজাদ জম্মু-কাশ্মীরে ১৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এনডিএমএ) জানিয়েছে, দেশজুড়ে অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ১১৬টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ৩৪টি আংশিক ও ১৪টি সম্পূর্ণ, বালতিস্তানে ১৪টি আংশিক ও ৩টি সম্পূর্ণ এবং আজাদ জম্মু-কাশ্মীরে ২৩টি আংশিক ও ২৮টি সম্পূর্ণ বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
বন্যায় বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মোবাইল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে বাজুড়ের সালারজাই এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে গিয়ে খাইবার পাখতুনখাওয়ার সরকারের একটি হেলিকপ্টার খারাপ আবহাওয়ায় বিধ্বস্ত হয়। এতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের ডিএনএ নমুনা লাহোরে পাঠানো হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুর জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার দল পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং শনিবার শোক দিবস পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর কার্যালয় জানায়, সারাদেশে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং নিহতদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এনডিএমএকে বালতিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে স্বাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিপর্যস্ত হয়েছে। বন্যার পানি গ্রিড স্টেশনে ঢুকে ৪১টি ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। মালাম জাব্বা এলাকায় অন্তত ১৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেসে গেছে। পেসকো জরুরি কর্মী মোতায়েন করেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করেছে।
পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর খান সতর্ক করেছেন, বুনের মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাঁর ভাষায়, সম্পূর্ণ গ্রাম ধ্বংস হয়েছে, সড়ক-অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। আমাদের এখন মূল লক্ষ্য উদ্ধারকাজ।
বুনের জেলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং সব হাসপাতাল সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।



