যুক্তরাজ্যে সম্পত্তি বিক্রি করছেন হাসিনার ঘনিষ্ঠরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৫, ০৫:২৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-এর যৌথ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি সাবেক ক্ষমতাসীন নেতাদের বিলাসবহুল সম্পত্তি হস্তান্তর, বিক্রি ও পুনঃঋণায়নের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের পরপরই লন্ডনের অভিজাত এলাকাগুলোতে সম্পত্তি লেনদেন ও ফ্রিজিং কার্যক্রম বেড়ে যায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, মে মাসে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (NCA) প্রায় ১,৪৬৯ কোটি টাকা মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট জব্দ করে, যা ছিল সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান রহমান ও ভাতিজা আহমেদ শাহরিয়ারের নামে। এর পরপরই সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে থাকা প্রায় ২,৭৭৬ কোটি টাকার ৩০০টির বেশি সম্পত্তি ফ্রিজ করা হয়।
গত এক বছরে জমি নিবন্ধন কর্তৃপক্ষে অন্তত ২০টি উল্লেখযোগ্য সম্পত্তি লেনদেনের আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে—
বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহানের নাইটসব্রিজের চারতলা বাড়ি ৭.৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডে হস্তান্তর ও বিক্রি
তার ভাই শাফিয়াত সোবহানের ভার্জিনিয়া ওয়াটারে ৮ মিলিয়ন পাউন্ডের ম্যানসন হস্তান্তর
সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামানের ভাই আনিসুজ্জামানের রিজেন্টস পার্কের ১০ মিলিয়ন পাউন্ডের টাউনহাউস বিক্রি ও রিফাইন্যান্স আবেদন
সালমান এফ রহমান পরিবারের গ্রোসভেনর স্কয়ারে ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডের অ্যাপার্টমেন্টও ইতিমধ্যে ফ্রিজ করা
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ করে সব ধরনের তদন্তে সহযোগিতার প্রস্তুতি জানিয়েছে।
এদিকে, সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আহসান মনসুর ও দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যতক্ষণ তদন্ত চলছে, ততক্ষণ যেন এসব সম্পত্তি হস্তান্তর, বিক্রি বা বন্ধক না রাখা হয়।
ব্রিটেনের সংসদীয় দুর্নীতিবিষয়ক অল-পার্টি গ্রুপের প্রধান জো পাওয়েল সতর্ক করে বলেছেন, “সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে এসব সম্পদ দ্রুত গায়েব হয়ে যেতে পারে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অনুসন্ধান শুধু বাংলাদেশের রাজনৈতিক দুর্নীতিকেই উন্মোচন করছে না, বরং আন্তর্জাতিক স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ও নীতিনৈতিকতারও কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।



