বাঙ্কার বাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৫, ০৭:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করছে অগ্নি-৫ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইলের (ICBM) দুটি উন্নত সংস্করণ, যা হবে বিশেষ বাংকার বাস্টার ক্ষমতাসম্পন্ন। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO) এই ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের কাজ করছে।
নতুন সংস্করণ অনুযায়ী, অগ্নি-৫ মাটির ৮০ থেকে ১০০ মিটার গভীরে ঢুকে কংক্রিট বাংকার ভেদ করে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারবে। এটি সর্বোচ্চ ৭,৫০০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম।
দুই ধরনের বাংকার বাস্টার ভার্সন তৈরি হচ্ছে:
- প্রথমটি: ২,৫০০ কিমি দূরত্বে লক্ষ্যবস্তুতে বাংকার ধ্বংসে সক্ষম সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র
- দ্বিতীয়টি: ৫,০০০ কিমি বা তার বেশি দূরত্বে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম সংস্করণ
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্প্রতি ইরানে মার্কিন এমওপি (Massive Ordnance Penetrator) বোমা ব্যবহারের পরে ভারত তার কৌশলগত অস্ত্রভাণ্ডারে এমন অস্ত্র সংযোজনের দিকে মনোযোগী হয়েছে। লক্ষ্য—আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন।
এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রথাগত বোমার মতো মাটির ওপর না পড়ে বরং ভিতরে ঢুকে বহুস্তর বিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করে বিস্ফোরিত হয়। ফলে এটি বাংকার, কমান্ড সেন্টার, মিসাইল সাইলো বা অস্ত্রাগারে ভয়ঙ্কর ধ্বংস ঘটাতে পারে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল উৎপল ভট্টাচার্যের মতে, “এটা একটি কৌশলগত ডেটারেন্ট—শত্রু দেশের মাসল পাওয়ারের জবাবে একটি শক্তিশালী বার্তা। অস্ত্রটি নির্দিষ্ট কোণে স্থাপন করে, একাধিক পর্যায়ে বিস্ফোরণের মাধ্যমে টার্গেটকে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।”
তিনি আরও জানান, “যদিও আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাংকার বাস্টার আলোচনায় এসেছে, ভারত অনেক আগেই এ ধরনের অস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করেছে। এই অস্ত্র আধুনিক যুদ্ধে অপরিহার্য।”
বর্তমানে বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো ভূগর্ভস্থ নিরাপদ বাংকারে স্থানান্তর করা হচ্ছে—যার জবাবে এই বাংকার বাস্টার প্রযুক্তিকে এখন ভবিষ্যতের অস্ত্র হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।



