ব্রাজিলিয়ান কুনিয়ার জোড়া গোলে অবিশ্বাস্য জয় ম্যানইউর
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ এএম
ঘরের মাঠে প্রথম ১৭ মিনিটেই দুই গোল হজম। বিরতির সময় নিজেদের সমর্থকদের দুয়োধ্বনি। টানা নয় ম্যাচ জয়হীন থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সামনে তখন আরও একটি হারের শঙ্কা। সেই সঙ্গে চাকরি হারানোর চাপ আরও বাড়ছিল কোচ মাইকেল ক্যারিকের। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল সবকিছু। ব্রুনো ফার্নান্দেজের পেনাল্টি গোলে ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু, এরপর শেষ দিকে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে ম্যাথিউস কুনিয়ার জোড়া গোল। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে রোমাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে স্বস্তির জয় পেয়েছে ইউনাইটেড।
মঙ্গলবার রাতে ওল্ড ট্রাফোর্ডে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বের ম্যাচে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নেয় ইংলিশ ক্লাবটি। প্রথমার্ধে মাতিয়াস সুলে ও ডনিয়েল মালেনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল রোমা। কিন্তু বিরতির পর ফার্নান্দেজের পেনাল্টি এবং কুনিয়ার দুই গোলে শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হয়েছে ইতালিয়ান ক্লাবটিকে।
এই জয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচের জয়খরা কাটিয়েছে ম্যানইউ। একই সঙ্গে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে প্রবল চাপে থাকা কোচ ক্যারিকের। অথচ ম্যাচের শুরুটা দেখে এমন প্রত্যাবর্তনের কথা ভাবাই কঠিন ছিল।
১১ মিনিটে এগিয়ে যায় রোমা। রদ্রিগো মোরার পাস থেকে বল পেয়ে ইউনাইটেডের অগোছালো রক্ষণের সুযোগ কাজে লাগান সুলে। তাঁর নিচু শটে পরাস্ত হন গোলরক্ষক সেন্নে লামেন্স। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই দ্বিতীয় গোল হজম করে স্বাগতিকরা। ১৭ মিনিটে সুলের শট আয়ডেন হেভেনের হাতে লাগলে পেনাল্টি পায় রোমা। স্পটকিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডনিয়েল মালেন।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যানইউর খেলায় হতাশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, গ্যালারি থেকে ক্লাবের মালিক গ্লেজার পরিবারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন সমর্থকেরা। একপর্যায়ে মাঠে টেনিস বল ছুড়ে প্রতিবাদ জানানো হলে কিছুক্ষণের জন্য খেলা বন্ধও রাখতে হয়।
প্রথমার্ধে রোমার রক্ষণে খুব বেশি চাপ তৈরি করতে পারেনি ম্যানইউ। বিরতির সময় তাই দুয়োধ্বনির মধ্যেই মাঠ ছাড়তে হয় ক্যারিকের শিষ্যদের। বিরতির পরও শুরুতে স্বস্তি ফেরেনি স্বাগতিকদের। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকেই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে মাঠ ছাড়েন কার্লোস বালেবা। বড় অঙ্কে দলে নেওয়া এই মিডফিল্ডারের চোট ম্যানইউর দুশ্চিন্তা আরও বাড়ায়।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে ৫৮ মিনিটে। রোমার বক্সে জিয়ানলুকা মানচিনির সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে যান কুনিয়া। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। যদিও সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক ছিল।
স্পটকিক নিতে আসেন ম্যানইউ অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ। তার প্রথম প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন রোমার গোলরক্ষক দেভিস ভাসকেস। কিন্তু পেনাল্টি নেওয়ার আগেই রোমার এক ফুটবলার নির্ধারিত জায়গা ছেড়ে বক্সে ঢুকে পড়ায় আবার পেনাল্টি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় সুযোগ আর নষ্ট করেননি ফার্নান্দেজ। জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান কমান তিনি।
এই গোলের পরই যেন বদলে যায় ওল্ড ট্রাফোর্ডের পরিবেশ। একের পর এক আক্রমণে রোমার রক্ষণকে ব্যস্ত করে তোলে ম্যানইউ। সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগও পেয়েছিলেন ব্রায়ান এমবেউমো। কুনিয়ার পাস থেকে তার নেওয়া শট দুই পোস্টের ভেতরের অংশে লেগেও জালে ঢোকেনি।
সময় যত গড়াচ্ছিল, ম্যানইউর জয়ের আশা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছিল। কিন্তু শেষ সাত মিনিটে ঘটল নাটকীয় সব ঘটনা। ৮৩ মিনিটে ফার্নান্দেজের ক্রস বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হন রোমার ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দি। তার ভুলে সামনে বল পেয়ে সহজেই জালে পাঠান কুনিয়া। ২-২ সমতায় ফেরে ম্যানইউ।
মাত্র তিন মিনিট পর আবারও গোল করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ৮৬ মিনিটে বদলি ফুটবলার শিয়া লেসির পাস পেয়ে রোমার বক্সে ঢুকে জোরালো শট নেন কুনিয়া। কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে ঢুকে গেলে উল্লাসে ফেটে পড়ে ওল্ড ট্রাফোর্ড। দুই গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যানইউ তখন ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে।
জয়সূচক গোলের পর উচ্ছ্বাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি কুনিয়া। জার্সি খুলে সমর্থকদের মধ্যে গিয়ে উদ্যাপন করায় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। এরপর যোগ করা সময়ে প্রতিপক্ষকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন এই ফরোয়ার্ড। ফলে জোড়া গোল করে দলকে জেতানোর পরও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। শেষ কয়েক মিনিট দশজন নিয়ে খেলেও জয় ধরে রাখতে সক্ষম হয় ম্যানইউ।



