‘সেরা টেস্ট’ জিতে বাংলাদেশের অপেক্ষায় বাভুমার দক্ষিণ আফ্রিকা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
ব্যাকফুটে থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে রীতিমতো বিধ্বস্ত করে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠার আনন্দে উদ্বেল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়া অধিনায়ক কেপটাউন টেস্ট জয়কে বলছেন তার ক্যারিয়ারের সেরা। শ্রেষ্ঠ জয় নিয়ে টেস্টে এক নম্বর দল হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার পরের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। যে সিরিজ জিতলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের পথে এগিয়ে যাবে তারা।
কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে সিরিজের নির্ণায়ক টেস্টে সফরকারী অজিদের ১৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হারায় স্বাগতিকরা। এই জয়কে নিজের ক্যারিয়ারের ‘সেরা টেস্ট জয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রোটিয়া অধিনায়ক বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার প্রতিটি সুযোগই আমরা উপভোগ করি। এর আগে এত অসাধারণ কোনো সিরিজে আমি অংশ নিইনি। তাই নিঃসন্দেহে এটিই আমার ক্যারিয়ারের সেরা টেস্ট জয়।'
ম্যাচের চতুর্থ দিনে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে রিয়ান রিকেলটন ও উইয়ান মুল্ডারের দুই দুর্দান্ত শতকে ভর করে লড়াকু প্রত্যাবর্তন ঘটায় স্বাগতিকরা। চতুর্থ ইনিংসে জয় পেতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৮৮ রান।
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের শেষ দিনে ম্যাচের পাল্লা দুই দিকেই সমান হেলে ছিল। তবে সকালের সেশনে নতুন বলে অজিদের ওপরের সারির তিন ব্যাটারকে প্যাভিলিয়নে ফেরান কাগিসো রাবাদা। এরপর বল হাতে জাদুকরী ঘূর্ণি দেখান অফস্পিনার সাইমন হার্মার। ২১.৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে সফরকারীদের মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে দেন তিনি।
পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে টেম্বা বাভুমা বলেন, ‘গতকাল আমরা নিজেদের মধ্যে বেশ কিছু খোলামেলা কথা বলেছি। আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল কীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দলের চরিত্র ফুটিয়ে তোলা যায়।’
‘ব্যাটাররা যে কাজটা করে দেখাল—বিশেষ করে রিয়ান রিকেলটন আর উইয়ান মুল্ডার যেভাবে আমাদের লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দিল—তাতে বোলারদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়।‘’
‘আজকের দিনে রাবাদার শুরুটাই কিন্তু ম্যাচের আবহাওয়া তৈরি করে দিয়েছিল। এরপর আমরা শক্তভাবে ম্যাচের রাশ ধরে রেখেছি।’
ডারবানে সিরিজের প্রথম টেস্টে ২১৪ রানের হারের ধাক্কা সামলে এই সিরিজ জয় মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘ প্রায় এক বছর লাল বলের ক্রিকেট না খেলায় শুরুর দিকে মাঠের পারফরম্যান্সে কিছুটা জড়তা ছিল প্রোটিয়াদের। তবে দ্রুতই ছন্দে ফিরে কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে পরাস্ত করে তারা।
বাভুমা আরও যোগ করেন, ‘মাঝে মাঝে অজিদের আধিপত্য দেখে আমরা হয়তো কিছুটা ভড়কে গিয়েছিলাম। তবে আমার মনে হয়, পিছিয়ে থেকে লড়াই করে ঘুরে দাঁড়ানোটাই দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটের আসল শক্তি।’
‘ব্যাকফুটে থাকা অবস্থাতেই যেন আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলি। এটা ভালো নাকি খারাপ দিক—তা নিয়ে ভাবা যেতে পারে, তবে সারা বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীরা যে সত্যিকারের ধ্রুপদী এক টেস্ট সিরিজ উপভোগ করেছেন, তাতে সন্দেহ নেই।’
গত বছর ঐতিহাসিক লর্ডসে এই অস্ট্রেলিয়াকেই হারিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে নতুন এই সিরিজ জয় বাভুমার অধিনায়কত্বের মুকুটে যোগ করল আরও একটি উজ্জ্বল পালক।
অস্ট্রেলিয়াকে পেছনে ফেলে আবারো র্যাংকিংয়ের শীর্ষে ওঠা নিয়ে প্রোটিয়া অধিনায়ক বলেন, ‘১ নম্বর স্থানটি অর্জন করা সত্যিই অসাধারণ। দল হিসেবে শীর্ষস্থান অর্জনের বড় এক লক্ষ্য আমাদের ছিল। আমরা নিজেদের মানকে প্রতিনিয়ত আরও ওপরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’
‘যে সুযোগটা পেয়েছি, তার সঠিক ব্যবহার করে প্রোটিয়া জার্সির সম্মান আরও বাড়াতে চাই। এমন অর্জন পুরো দল মিলে উদ্যাপন করার মতোই।’
অস্ট্রেলিয়া বধের আনন্দ সেরে প্রোটিয়াদের খুব বেশি বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ নেই। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে স্বাগতিকদের পরবর্তী মিশন শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। ঘরের মাঠে টাইগারদের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মাঠে নামবে বাভুমার দল।



