চাওয়া-পাওয়ার হিসেব শেষে মহানায়কের বিদায়ের পালা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ এএম
অদ্ভূত এক শূন্যতার শঙ্কায় আচ্ছন্ন চারদিক। লিওনেল মেসির বিদায়ের বিষাদের রাগিনী বেজে উঠবে, সেই হাহাকারের স্রোত ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ের পাড় ভেঙে হু-হু বেগে বইছে। অথচ, মেসি আছেন ফুরফুরে মেজাজে! আর্জেন্টিনা দলে তার যোগ দিতে আসার যে ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কেডস-জিন্স-রোদ চশমা পরা, স্পাইক করা চুলের সামনের খানিকটা অংশ আগুনের রঙে রাঙিয়ে এক তরুণ বাস থেকে নেমে হেলে-দুলে হেঁটে চলেছেন ক্যাম্পের উদ্দেশে। চোখে-মুখে বিষণ্ণতার ছাপ নেই একবিন্দুও। কী অদ্ভূত বৈপরীত্য!
আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসের স্তাদিও মনুমেন্তালে বুধবার বিদায়ের মঞ্চে বেনিনের বিপক্ষে যখন মেসি খেলতে নামবেন, তার অনেক আগে থেকেই হয়তো স্টেডিয়ামে আসার পথ, গ্যালারিতে থাকবে লাখো সমর্থকের ভিড়। প্রিয় তারকাকে শেষবারের মতো আকাশী নীল-সাদা জার্সিতে দেখার আনন্দ-বেদনার মিশেল থাকবে তাদের চোখে-মুখে। এই শেষটায় তাকে চেনে না, এমন কে আছে ফুটবল দুনিয়ায়!
কিন্তু শুরুর দিনগুলোতে এইসব সমর্থক, আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তা তাকে কি চিনত; জানত?
দুই দশকেরও বেশি সময়ের যে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চলেছেন মেসি, সেই ক্যারিয়ার শুরুর আগে তিনি ছিলেন খোদ আর্জেন্টাইনদের অধিকাংশের চোখের আড়ালে। অনেক দূরের কাম্প নউয়ে নিজের মতো করে বেড়ে উঠছিলেন বার্সেলোনার পরিচর্যায়। রোসারিওর একটি পরিবারের বিশেষ করে বাবা-মায়ের সীমাহীন আত্মত্যাগের বিনিময়ে! আর্জেন্টিনার সাথে মেসির এই নতুন সংযোগওটাও গল্পের মতো।
২০০৩ সাল, ফিনল্যান্ডে বসেছিল অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ। সেবার স্পেন সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল ৩-২ গোলে। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করা স্পেনের মিডফিল্ডার সেস ফাব্রেগাস ছিলেন বার্সেলোনার একাডেমি ‘লা মেজাইয়া’তে মেসির সতীর্থ। তিনিই প্রথম ‘ফাঁস’ করে দিয়েছিলেন, স্পেনে বেড়ে উঠছে আর্জেন্টিনার চোখের মনি! আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিদের তিনি নাকি ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, “আপনারা আমাদের কাছে হেরেছেন; কেননা, আপনাদের সেরা খেলোয়াড়টি এখন বার্সেলোনায় খেলছে এবং সে একজন জিনিয়াস।”
আর্জেন্টিনার যুব দলের কোচ হুগো তোকালিও এমন একটি ঘটনার কথা স্মরণ করেছিলেন গত মাসে 'ওলে সামিট'-এ। বলেছিলেন, স্পেনের প্রধান শেফ তাঁকে বলেছিলেন যে, টুর্নামেন্টটি জিততে হলে আর্জেন্টিনার এমন একজন খেলোয়াড় প্রয়োজন ‘যে বার্সেলোনায় খেলে।’ ব্যস, শুরু হয় এএফএ কর্তা, কোচদের দৌড়ঝাঁপ। মেসিকে খুঁজে পাওয়ার অভিযান। কিন্তু রত্ন খুঁজে পাওয়া কী চাট্টিখানি কথা। তাই ভোগান্তি এলো নানাভাবে। শুরুতেই নামের বানানে বিপত্তি! Messi নাকি Mecci; Lionel নাকি Leonardo?
আর্জেন্টিনার সাংবাদিক এবং লেখক সের্হিও লেভিনস্কির ‘মেসি অ্যান্ড এভরিথিং এলস’ বইয়ে এবং ‘মেসি: দা ফরগটেন টেপ’ ডকুমেন্টরিতে এ নিয়ে বিস্তারিত গল্প আছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, এএফএ’র কর্মী ওমার সাউতো রোসারিওর একটি টেলিফোন ডিরেক্টরি থেকে স্পেনে থাকা মেসির পরিবারের খোঁজ পান। কিন্তু তিনি ভুল করে লিওনেলের বদলে লিওনার্দোকে খোঁজেন। সাউতোকে নাকি বলা হয়েছিল ছেলেটির নাম লিওনার্দো।
এএফএ’ও একটি ফ্যাক্স পাঠিয়েছিল বার্সেলোনায়। সেখানে তারা ‘মেচি’ নামের খেলোয়াড় সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, ছেলেটা ইতালিয়ান বংশোদ্ভূত, তাই Messi নয় Mecci-কে খুঁজেছিলেন তারা। নানা জটিলতার পর নাম নিয়ে এই সংশয়ের অবসান হয় পরে। মেসিও ২০০৪ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেললেন অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে। দুটি প্রীতি ম্যাচে অবশ্য ঠিক ছাপ পাওয়া যায়নি আগামীর মহাতারকার। তাই তো, পরের বছর অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে (ফিফা ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপ) আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয় তাকে। পরের ম্যাচগুলো তিনি খেললেন, ছয় গোলের আলো ছড়িয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন, আর্জেন্টিনাও জিতল শিরোপা।
প্রথম ম্যাচে মেসির বেঞ্চে বসে থাকা নিয়ে লেভিনস্কি সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছিলেন এভাবে। দেশে না খেলা এমন এক কিশোরকে (মেসিকে) দলে ডাকার বিষয়েই প্রবল আপত্তি ছিল অনেকের। স্পেনে থাকার কারণে তাকে ‘বিদেশি’ হিসেবেও দেখা হতো। ২০০৫ সালের অগাস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের পরও অনেক দিন তিনি ছিলেন ‘বিদেশি’! অথচ, তার অভিষেকের ম্যাচের পর বিবিসিতে টিম ভিকেরি’র লেখার শিরোনাম ছিল- মেসি হ্যান্ডেলস নিউ মারাদোনা ট্যাগ।’
পরের বছর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে গোলের খাতা খোলেন মেসি। ২০০৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে খেলতে নামা এবং গোল করা; ২০০৭ সালে কোপা আমেরিকার সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হওয়া, ২০০৮ সালের অলিম্পিকসে আর্জেন্টিনাকে ফুটবল ইভেন্টের সোনা এনে দেওয়া- অনেক ছাপই মেসি রাখলেন, তবুও তিনি তখনও ‘আর্জেন্টাইন’ হয়ে ওঠেননি। তিনি বরং আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ছিলেন ‘পেচো ফ্রিও’ যার অর্থ আবেগ বা লড়াকু মানসিকতার অভাব থাকা খেলোয়াড়!
এই দৃষ্টিভঙ্গির বদলের শুরু ২০১১ সালে এসে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে দলের কঠিন সময়ে ঝলক দেখালেন মেসি। গোল করলেন। ঘুরে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা জিতে নিল ম্যাচটি। ওই ম্যাচ মেসি এতটাই ক্লান্ত ছিলেন যে, খেলার সময় বমিও করেন, কিন্তু দমে যাননি। সেই থেকে সমর্থকরা তাকে লড়াকু এক আর্জেন্টাইন হিসেবে দেখতে লাগল। কিন্তু তখনও বার্সেলোনার ফর্ম ও সাফল্য দেশের জার্সিতে টেনে আনতে না পারার অপবাদ তার ঘোচেনি।
ঘোচার তেমন কারণও ছিল না। ২০১০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার দলীয় ব্যর্থতা, অধিনায়ক হিসেবে দলকে টেনে নিতে না পারা এবং গোল করতে না পারার ব্যর্থতা ছিল মেসির সঙ্গী। চার বছর পর ব্রাজিল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুললেন তিনি; কিন্তু জার্মানির দেয়াল ভাঙতে পারলেন না। গোল্ডেন বল তিনি নিতে এলেন গোমড়া মুখে, চোখের দুকোণে চিকচিক করা অশ্রু নিয়ে তাকিয়ে থাকলেন অধরা ট্রফিটির দিকে। তিনি কাঁদলেন। কিন্তু মন গলল না আর্জেন্টাইনদের; ভ্রুকুটিতে তারা এড়িয়ে গেলেন অশ্রুসিক্ত মেসিকে।
এলো ২০১৬ কোপা আমেরিকা। লাতিন আমেরিকার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ফিরে পাওয়ার দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে চিলির বিপক্ষে ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে বসল আর্জেন্টিনা। এবার রাগ-ক্ষোভ-হতাশায় বিদীর্ণ হৃদয়ের রক্তক্ষরণ মেসিকে বাধ্য করল কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে। শৈশবের হরমোন সমস্যাসহ হাজারো প্রতিবন্ধকতার দেয়াল পেরিয়ে আসা মানুষটি ভেতরে-ভেতরে এতটাই ক্ষত-বিক্ষত হলেন যে, হাল ছেড়ে দিলেন। আর্জেন্টিনাকে বলে দিলেন-বিদায়!
এই এক ঘোষণায় আমূল বদলে গেল সবকিছু। মেসিকে অনুভব করতে লাগলেন আলবিসেলেস্তে সমর্থকেরা। ছাড়া ছাড়া সম্পর্ক দৃঢ় হতে লাগল। মেসির চাওয়া হয়ে উঠতে লাগল আর্জেন্টাইনদের চাওয়া। চারদিক থেকে দাবি উঠতে লাগল ফিরে আসার। দোষারোপের জায়গার দখল নিল উষ্ণতাভরা ভালোবাসা। মেসিও তা অনুভব করলেন অন্তঃস্থল থেকে। হতাশার অশ্রু মুছে তিনি ফিরলেন। কিন্তু দুঃসময় যে তার পিছু ছাড়ার পাত্র নয়!
২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনা এলো ২০১৮ বিশ্বকাপের মঞ্চে। মেসি ততদিনে অনেক বড় তারকা। প্রত্যাশার ফানুস উড়ছে চারদিক। কিন্তু বিধি বাম। আর্জেন্টিনা ছিটকে গেল শেষ ষোলো থেকে; ফ্রান্সের বিপক্ষে ৪-৩ গোলে হেরে। কোচের পদ ছাড়লেন হোর্হে সাম্পাওলি। দায়িত্বে এলেন অখ্যাত লিওনেল স্কালোনি। যার নিয়োগ নিয়ে কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনা থেকে শুরু করে আর্জেন্টিনার অনেকে ধুয়ে দিলেন এএফএকে। কিন্তু খেল শুরু স্কালোনি-মেসি জুটির হাত ধরেই! চিত্রনাট্যে এমনই ব্যতিক্রম!
২০২১ সালের কোপা আমেরিকা আর্জেন্টিনা জিতল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে ঐতিহাসিক মারাকানায় ১-০ গোলে হারিয়ে। ২৮ বছর পর আলবিসেলেস্তেরা ফিরে পেল লাতিন শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। মেসি পেলেন দেশের হয়ে প্রথম শিরোপা জয়ের অনির্বচনীয় স্বাদ। কলম্বিয়ার লুইস দিয়াসের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন মেসি (৪টি)। নেইমারের সঙ্গে যৌথভাবে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতলেন। এই প্রথম আকাশী নীল-সাদা জার্সিতে প্রাণখোলা হাসিতে হেসে ওঠার উপলক্ষ পেলেন বাঁ পায়ের জাদুকর।
পরের বছরের কাতার বিশ্বকাপ এলো এতদিনের রিক্ত হস্ত পূর্ণ হওয়ার বার্তা নিয়ে। যদিও শুরুটা হলো যাচ্ছেতাই, সৌদি আরবের বিপক্ষে হেরে, কিন্তু এরপর আর্জেন্টিনা যেন মরুভূতিতে ছোটা দুর্বার অশ্ব। যার লাগাম মেসির মুঠোয়। একে একে সব বাধা পেরিয়ে ফাইনালে উঠে গেল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ফাইনালের গল্প লিখে টাইব্রেকারে জিতল ৪-২ ব্যবধানে, নির্ধারিত সময়ের খেলা ৩-৩ সমতায় শেষের পর।
ঘুচল আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের হাহাকার। মেসি পেলেন গোল্ডেন বলও। প্রাপ্তির সপ্তামাকাশ যেন ছুঁলেন মেসি। এখন পালা ইতিহাসের পাতায় পাতায় আরও আঁচড় কাটার।
এলো ২০২৪ কোপা আমেরিকা। চিলিকে হারিয়ে মুকুট ধরে রাখল আর্জেন্টিনা। মেসির অধিনায়কত্বে কোপা আমেরিকা-বিশ্বকাপ-কোপা আমেরিকার চক্র পূরণ করল তারা। ততদিনে বয়স বাড়ল, বাঁ পায়ের দ্যুতিও কমল কিছুটা। দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা, সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা- এমন অনেক খাতায় নাম তোলা হয়ে গেছে। তবুও মেসি চাইলেন ৩৯ বছর বয়সে এসে আরেকবার প্রাণবাজি রেখে আকাশী নীল-সাদা জার্সিতে লড়তে। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য তৈরি করতে লাগলেন বয়সী শরীরটাকে, বয়সের ভারে জড়তা পেয়ে বসা পা দুটোকে।
কানসাস সিটি থেকে নিউ জার্সি পর্যন্ত মেসি ছুটলেন। গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউট পর্বে উঠল আর্জেন্টিনা। শেষ বত্রিশে কাঁপতে কাঁপতে কেপ ভার্দে বাধা পার হলো স্কালোনির দল। শেষ ষোলোয় ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, মেসি ও এন্সো ফের্নান্দেসের নৈপুণ্যে মরক্কোর বিপক্ষে এলো ঘাম ঝরানো জয়।
কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ গোলের স্বস্তির জয়ের পর আর্জেন্টিনাকে স্বরূপে দেখা গেল সেমি-ফাইনালে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। অতীত ইতিহাস, ফকল্যান্ড যুদ্ধের উত্তাপ মিলিয়ে ধুন্ধুমার লড়াই হলো। সেখানে লাউতারো মার্তিনেস দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে গড়ে দিলেন ম্যাচের ভাগ্য। প্রাণশক্তির প্রায় পুরোটা নিংড়ে নেওয়া ম্যাচে ইংলিশদের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতল আর্জেন্টিনা।
১৯ জুলাই ২০২৬, মেটলাইফ স্টেডিয়াম। মেসি জ্বলে উঠলেন না নিজের মতো। আর্জেন্টিনাও থাকল আড়ালে। ম্যাচ জুড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য করা স্পেন ফেররান তোরেসের একমাত্র গোলে শিরোপা জিতে নিল। আর্জেন্টিনার মুকুট ধরে রাখার স্বপ্ন ভাঙল। মেসি কাঁদলেন। এবার তার সাথে কাঁদল সমর্থকরা। কান্নার মধ্যে যেন মিলিয়ে দেওয়ার মন্ত্র মেশানো!
ফাইনালের পরই জাতীয় দলের হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করা মেসির শেষের ছবিটা আঁকা হয়ে গিয়েছিল। তবু অপেক্ষা ছিল আনুষ্ঠানিকতা সারার। সেটাই এখন দোরগোড়ায়। প্রিয় আর্জেন্টিনার বুট জোড়া তুলে রাখার দিনে, বেনিন ম্যাচের আগে-পরে মেসি কী কাঁদবেন? কে জানে? ভক্তরা কাঁদবেন প্রিয়হারা বেদনায়। কিন্তু এবার খেলতে আসার ছবিটাই যেন বলে দিচ্ছে, এই ম্যাচ তিনি নামবেন চাওয়া-পাওয়ার হিসেব ছাড়াই। কোপা আমেরিকা-বিশ্বকাপ-কোপা আমেরিকা, এই সমীকরণ তো মিলিয়ে দিয়েছি, মিলিয়ে নিয়েছি, আর কী চাই? বিদায়ের বিষাদ নিশ্চয় থাকবে, খাঁটি আর্জেন্টাইন হয়ে বিদায় নেওয়ার আনন্দও যে কম নয়। এমনই বৈপরীত্য মহানায়কের বিদায়বেলায়।



