ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলের সঙ্গে সফল একটি অধ্যায় শেষ করে তুর্কি ক্লাব ত্রাবজোনস্পোরে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করার প্রাক্কালে বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছেন মিসরীয় ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ। বকেয়া আইনি ফি পরিশোধসংক্রান্ত একটি দেওয়ানি মামলায় তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মিসরের একটি আদালত।
মিসরের নিউ কায়রো কোর্ট অব ফার্স্ট ইনস্ট্যান্সের দেওয়ানি বেঞ্চ সম্প্রতি এ আদেশ জারি করেন। আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এক মামলায় আগামী ৬ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ সালাহকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও পেশাগত আইনি সেবা দেওয়ার দাবি তুলে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সালাহর বিরুদ্ধে মামলাটি (মামলা নম্বর: ৭৮২৬/২০২৫, পূর্ণ দেওয়ানি) দায়ের করেন আইনজীবী আমর ফারাগ আল্লাহ মোর্সি আবদেল তাওয়াব।
ওই আইনজীবীর মূল অভিযোগ, ২০১২ সালে সালাহর দেওয়া একটি অফিসিয়াল ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ বা ক্ষমতার বলে তিনি দীর্ঘদিন সালাহর ব্যক্তিগত, প্রশাসনিক ও আইনি কাজ এবং আদালতের নথিপত্র সামলেছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তার বিশাল অঙ্কের বকেয়া সার্ভিস ফি পরিশোধ করা হয়নি। ফলে ফি-র পাশাপাশি আর্থিক ও মানসিক ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি।
তবে মোহাম্মদ সালাহ মামলার আরজিতে করা এই কাজ ও বকেয়ার সমস্ত দাবি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। মিসরীয় তারকারর এই অস্বীকৃতির সত্যতা যাচাই করতেই আদালত তাকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে শপথ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ, লিখিত বক্তব্যে তিনি যা দাবি করেছেন তা আদালতের সামনে শপথ করে প্রমাণ করতে হবে।
কিন্তু সালাহ যদি নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির হয়ে শপথ নিতে ব্যর্থ হন কিংবা কোনো উপযুক্ত কারণ ছাড়াই শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান, তবে তাঁকে ‘শপথ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তি’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হবে যে তিনি আইনজীবীর দাবি মেনে নিয়েছেন এবং মামলার রায় তার বিপক্ষে চলে যেতে পারে। তবে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আপাতত রায় স্থগিত রেখেছেন বিচারক।
এই আইনি সমনটি সালাহর পেশাদার ক্যারিয়ারে এক অদ্ভুত জটিলতা তৈরি করেছে। আগামী ১৫ আগস্ট কাসিমপাশার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তুর্কি লিগে ত্রাবজোনস্পোরের জার্সিতে মাঠে নামার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর আগামী ৬ সেপ্টেম্বর গেনচলেরবিরলিগির বিপক্ষে ত্রাবজোনস্পোরের ম্যাচ রয়েছে। আর ঠিক একই দিনে মিসরের আদালতে তাঁকে সশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে।
নতুন ক্লাব, নতুন পরিবেশ এবং ফুটবল মাঠে নিজের সেরাটা দেওয়ার প্রেসারের মাঝে নিজ দেশের আদালতে আইনি লড়াইয়ে হাজিরা দেওয়ার এই বাধ্যবাধকতা সালাহর জন্য বেশ বড় এক চ্যালেঞ্জ। মাঠের পারফরম্যান্স অক্ষুণ্ণ রেখে আইনি এই জটিলতা তাঁর আইনি টিম কীভাবে সামাল দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।



