আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণের আগে যে সমীকরণে এগিয়ে কেইনরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত। শেষ চারের লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। মাঠের শক্তি, তারকাদের সামর্থ্য কিংবা কৌশল সব দিক থেকেই ম্যাচটি ঘিরে উত্তেজনার কমতি নেই। তবে মহারণের আগে দু’দলের প্রস্তুতি ও শারীরিক ধকলের হিসাব বলছে, কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড।
কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে থমাস টুখেলের দলকে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচের নিষ্পত্তি না হওয়ায় অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলতে হয় ইংলিশদের। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে তারা। চলতি বিশ্বকাপে অবশ্য এটিই ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ, যেখানে তাদের ৯০ মিনিটের বেশি মাঠে থাকতে হয়েছে।
আর্জেন্টিনার গল্পটা ভিন্ন। লিওনেল স্কালোনির দলকে নকআউট পর্বে একের পর এক দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলতে হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা।
টানা দুটি ম্যাচে ১২০ মিনিটের লড়াই স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি চাপ ফেলেছে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের শরীরে। লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজসহ দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের মাঠে কাটাতে হয়েছে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের তুলনায় বেশি সময়। টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে এসে এই অতিরিক্ত ধকল স্কালোনির জন্য চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
শুধু মাঠে কাটানো সময়ই নয়, বিশ্রামের হিসাবেও কিছুটা এগিয়ে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার আগে নিজেদের ম্যাচ খেলেছে হ্যারি কেইনদের দল। ফলে সেমিফাইনালের আগে প্রতিপক্ষের তুলনায় কয়েক ঘণ্টা বেশি রিকভারির সময় পাচ্ছেন ইংলিশ ফুটবলাররা। আপাতদৃষ্টিতে সময়ের ব্যবধান খুব বেশি না হলেও বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের শেষ দিকে কয়েক ঘণ্টার বাড়তি বিশ্রামও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
পরবর্তী ম্যাচের আগে চার দিনেরও কম সময় পাচ্ছে আর্জেন্টিনা। তাই স্কালোনি ও তার কোচিং স্টাফের বড় কাজ এখন খেলোয়াড়দের যতটা সম্ভব সতেজ করে তোলা। অনুশীলনের চাপ নিয়ন্ত্রণ, শারীরিক পুনরুদ্ধার এবং গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের ম্যাচের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রাখার দিকেই বেশি নজর দিতে হবে আর্জেন্টাইন শিবিরকে।
তবে সব হিসাব ইংল্যান্ডের পক্ষে নয়। ভ্রমণের ধকল বিবেচনায় বরং কঠিন পথ পাড়ি দিয়েছে টুখেলের দল। সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। বিভিন্ন ভেন্যুতে ম্যাচ খেলতে গিয়ে আকাশপথেই প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছেন হ্যারি কেইন, বুকায়ো সাকারা।
দীর্ঘ ভ্রমণ, আবহাওয়া ও ভেন্যু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চাপ ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আর্জেন্টিনার বাড়তি ম্যাচ-সময় আর ইংল্যান্ডের দীর্ঘ ভ্রমণ দু’দলের সামনেই রয়েছে ভিন্ন ধরনের শারীরিক চ্যালেঞ্জ।
এ কারণে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের হিসাব কেবল মাঠের কৌশল কিংবা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। খেলোয়াড়দের ক্লান্তি, রিকভারি, ভ্রমণের ধকল এবং মানসিক দৃঢ়তাও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
আর প্রতিপক্ষ যখন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড, তখন ম্যাচটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ইতিহাস ও আবেগও। পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার হাতছানি। সব মিলিয়ে শেষ চারের এই মহারণে মাঠে বল গড়ানোর আগেই শুরু হয়ে গেছে নানা সমীকরণের লড়াই।



