বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গোলশূন্য থাকার পর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেই দুর্দান্ত জবাব দিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। জোড়া গোল করে দলকে বড় জয়ের পথে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গড়েছেন একাধিক রেকর্ডও।
ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই জোয়াও কানসেলোর পাস থেকে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি। একই সঙ্গে এটি ছিল পর্তুগালের জার্সিতে তাঁর ১৪৪তম গোল।
১৭ মিনিটে নুনো মেন্দেসের দুর্দান্ত এক ফ্রিকিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পর্তুগাল। এরপর ৩৯ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে যান তিনি। ১০ গোল নিয়ে পেছনে ফেলেন কিংবদন্তি ইউসেবিওকে, যার গোলসংখ্যা ছিল ৯।
বিরতির আগেই হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল পাঠালেও শেষ মুহূর্তে উজবেক ডিফেন্ডার আবদুকদির খুসানভ গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬০ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে বক্সের মধ্যে জটলার সৃষ্টি হয়। রোনালদো ও এক উজবেক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল জালে জড়ায়। পরে গোলটি উজবেকিস্তানের গোলরক্ষক আবদুভোহিদ নেমাতভের আত্মঘাতী গোল হিসেবে গণ্য করা হয়।
উজবেকিস্তান একবার ম্যাচে ফেরার আশা জাগিয়েছিল। আজিজ গানিয়েভ দূরপাল্লার শটে বল জালে পাঠালেও ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করা হয়। গোলের আগে জোয়াও কানসেলোর ওপর ফাউল হওয়ায় গোলটি স্বীকৃতি পায়নি।
এই ম্যাচে জোড়া গোল করে আরেকটি রেকর্ডও নিজের করে নেন রোনালদো। ৪১ বছর ১৩৮ দিন বয়সে বিশ্বকাপে এক ম্যাচে জোড়া গোল করা সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলার এখন তিনি। এর আগে রেকর্ডটি ছিল লিওনেল মেসির দখলে, যিনি ৩৮ বছর ৩৬৩ দিন বয়সে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন।
প্রথম ম্যাচের হতাশা ভুলে রোনালদোর নেতৃত্বে দুর্দান্ত ছন্দে ফিরেছে পর্তুগাল। আর সেই প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্রে ছিলেন পর্তুগিজ মহাতারকাই।



