Logo
Logo
×

খেলা

ইরানি ফুটবলারের বিস্ফোরক অভিযোগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

ইরানি ফুটবলারের বিস্ফোরক অভিযোগ

অস্ট্রেলিয়ায় এএফসি নারী এশিয়ান কাপে অংশ নেওয়ার পর দেশে ফিরেছে ইরান নারী ফুটবল দল। তবে সফরজুড়ে নানা বিতর্কের মধ্যে এক খেলোয়াড়ের অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মিডফিল্ডার ফাতেমেহ শাবান দাবি করেছেন, অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে স্থানীয় পুলিশ তাদের দেশে না ফেরার জন্য চাপ দিয়েছিল। যদিও অস্ট্রেলিয়ার সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইরান নারী দল অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছায় অত্যন্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে। দেশে চলমান সংঘাতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হওয়ার পর চাপের মধ্যেই টুর্নামেন্টে অংশ নেয় দলটি। জাতীয় সংগীতের সময় নীরব থাকা এবং ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় খেলোয়াড়দের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় কয়েকজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন করেন।

তবে তাদের অবস্থান ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে হয়। পরে পরিবার নিয়ে হুমকির অভিযোগের মধ্যে অধিকাংশ খেলোয়াড় দেশে ফিরে যান। বর্তমানে সাতজন আশ্রয়প্রার্থীর মধ্যে মাত্র দুজন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। দেশে ফেরার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে খেলোয়াড়দের ‘নায়ক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। মঞ্চে ফুল হাতে তাদের অভ্যর্থনা জানানোর দৃশ্যও প্রচার করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শাবান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘পাসপোর্ট যাচাইয়ের সময় আমাদের প্রত্যেককে আলাদা কক্ষে নেওয়া হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে যখন একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমার হাত ধরে নিয়ে গেলেন, আমি কিছুটা ভয় পেয়েছিলাম। পরে একটি কক্ষে বসানো হয়। সেখানে নিরাপত্তাকর্মী ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলেন এবং বুঝতে পারি তারা আবার জানতে চায় আমরা দেশে ফিরলে কী হবে, দেশ যুদ্ধের মধ্যে আছে, এই ধরনের বিষয়।’ শাবানের ভাষ্য, ‘তারা বারবার একই ধরনের প্রশ্ন করছিল, যেন আমি বলি যে আমি নিশ্চিত নই দেশে ফিরব কি না। একসময় আমাকে বলা হয়, চাইলে পরিবারের সঙ্গে এখনই কথা বলতে পারি এবং সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গেই বলি, আমি থাকতে চাই না। যারা থাকতে চেয়েছে, তারা আগেই থেকে গেছে। আমি তাকে আর প্রশ্ন শেষ করতে দিইনি, বলেছি- আমি ইরানে ফিরতে চাই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘তখন আমার মনে একটা অস্বস্তি কাজ করছিল। আমি একটু ভয়ও পেয়েছিলাম, কারণ আমি দেশে ফিরতে চেয়েছিলাম; আমার পরিবার, আমার মাতৃভূমিতে যেতে চেয়েছিলাম।’

তবে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক আগেই এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না কাউকে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা। আমরা সে ধরনের দেশ নই।’

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ একে ‘প্রচারমূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ খেলোয়াড়দের ওপর চাপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়া দুই খেলোয়াড় ফাতেমেহ পাসানদিদেহ ও আতেফেহ রামেজানিসাদেহ এখন ব্রিসবেন রোরের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করেছেন। হিজাব ছাড়া হাসিমুখে তাদের অনুশীলনে অংশ নিতে দেখা গেছে।

জানা গেছে, আশ্রয়ের আবেদন করা সাতজনের মধ্যে এই দুজনই অস্ট্রেলিয়ায় থেকে গেছেন। বাকি খেলোয়াড়রা পরে সিদ্ধান্ত বদলে দলে ফিরে যান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিনায়ক জাহরা ঘানবারি পরিবারের ওপর হুমকির আশঙ্কায় দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হন। বিশেষ করে তার মায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন