নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম আজ যেন উত্তেজনার কড়াই। ফাইনাল এখনও দূরে, তবু আবহটা ফাইনালের আগুনে দপদপ করছে। কারণ মুখোমুখি ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল ও দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গত আসরেও শিরোপা লড়াইয়ে দেখা হয়েছিল দুই দলের, এবার সুপার এইটের মঞ্চে শুরু হচ্ছে আরেক অধ্যায়।
গ্রুপ পর্বে অপরাজিত দক্ষিণ আফ্রিকা আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে। অন্যদিকে ভারত খুঁজছে ওপেনিং ও মিডল অর্ডারের কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য। ম্যাচের বড় আলোচ্য বিষয় প্রোটিয়াদের ‘স্পিন কৌশল’। ভারতীয় ব্যাটিং লাইনে ছয়জন বাঁহাতি থাকায় অফ-স্পিনারদের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে কুইন্টন ডি কক অতীত ভুলে এগোনোর বার্তাই দিলেন। ২০২৪ সালের ফাইনাল হার প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, সেই স্মৃতি ঝেড়ে ফেলা হয়েছে। আহমেদাবাদের কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা পরিষ্কার, তবে শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে স্নায়ু ধরে রাখাই আসল লড়াই। বরুণ চক্রবর্তীর স্পিন নিয়ে তিনি স্বীকার করেন, তিনি এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরাদের একজন; তবু নিজেদের দক্ষতার ওপর আস্থা রাখতেই হবে।
ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে সামলাতে হচ্ছে টপ অর্ডারের অফ-ফর্ম। এক পঞ্জিকাবর্ষে পাঁচটি ‘ডাক’ পাওয়া অভিষেক শর্মাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সূর্যের সোজাসাপ্টা জবাব, অভিষেক বড় ইনিংস খেললে প্রতিপক্ষই বেশি চিন্তিত হবে। দলের দর্শন পরিষ্কার, টপ অর্ডার ব্যর্থ হলে মিডল অর্ডার দায়িত্ব নেবে। কেবল ছক্কার ঝড় নয়, পরিস্থিতি বুঝে বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেটই লক্ষ্য।
বোলিং ইউনিট নিয়েও আত্মবিশ্বাসী সূর্য। তাঁর মতে, ১৭০–১৮০ রান বোর্ডে থাকলে সেটি রক্ষা করার সামর্থ্য আছে বোলারদের। টস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি হয়তো প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
আহমেদাবাদের কালো মাটির ধীর উইকেট বড় রান তুলতে বাধা হতে পারে। এখানে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ভারত ধুঁকেছিল, তবে দক্ষিণ আফ্রিকা তিন ম্যাচ খেলে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। ভারতের জন্য সুখবর অক্ষর প্যাটেল ও অর্শদীপ সিংয়ের ফেরা। প্রোটিয়া শিবিরে লুঙ্গি এনগিডির প্রত্যাবর্তন পেস আক্রমণকে আরও ধারালো করবে।
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারত ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা সংখ্যার চেয়ে আলাদা গল্প লিখতে পারে। অভিষেক বনাম মার্করামের লড়াই, কিংবা ভারতের মিডল অর্ডারের স্থিতিশীলতা আজ ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। রাতের ম্যাচে শিশির ফ্যাক্টর থাকলেও, শেষ পর্যন্ত জয় পাবে যে দল পরিকল্পনাকে নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে। সুপার এইটের শুরুতেই পূর্ণ পয়েন্ট কুড়িয়ে নিতে পারলে সেমিফাইনালের পথে সেটিই হবে বড় পদক্ষেপ।



