ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় পাকিস্তান
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শত কোটি টাকার ধাক্কার শঙ্কায় আইসিসি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে পাকিস্তান। দেশটির সরকার জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে অটল থাকলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা, আলাদা উন্মাদনা। মাঠের বাইরেও এই লড়াই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন স্ক্রিন ও বিজ্ঞাপনের বাজারে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই ম্যাচটি আইসিসির জন্যও সবচেয়ে লাভজনক আয়োজনগুলোর একটি। ফলে পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিপুল রাজস্ব হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হওয়ার কথা থাকলেও, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ভারতীয় সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে পাকিস্তানকে ইঙ্গিতপূর্ণ খোঁচা দিয়ে প্রমোশনাল বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করেছে।
সাধারণত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বাণিজ্যিক মূল্য অন্য যেকোনো ম্যাচের তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি হয়। বাড়তি দর্শক আগ্রহের কারণে বিজ্ঞাপন থেকেই আসে মোটা অঙ্কের অর্থ। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই ম্যাচটি না হলে আইসিসির প্রায় ২৫০ কোটি ভারতীয় রুপি ক্ষতি হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩৫ কোটি টাকা।
হিসাব বলছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে প্রতি ১০ সেকেন্ড বিজ্ঞাপন থেকেই আইসিসির আয় প্রায় ৪০ লাখ ভারতীয় রুপি। সেখানে বাংলাদেশের ম্যাচ থেকে আসে গড়ে ৮ থেকে ১০ লাখ রুপি। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে যেতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয় আইসিসি। ফলে ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচের সম্ভাব্য আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সংস্থাটি।
নানা মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচসহ বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের পাঁচটি ম্যাচ না হওয়ায় আইসিসির অন্তত ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব কমে যেতে পারে। এর বাইরে ডিজিটাল মার্কেটিং থেকেও বড় অঙ্কের আয় হাতছাড়া হচ্ছে। বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিপুল রিচ, রিঅ্যাকশন ও মেটা-ইউটিউব আয়ের সম্ভাবনা ছিল, সেটিও আর থাকছে না।
বাংলাদেশের পরিবর্তে ‘সি’ গ্রুপে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে এখনো কিছুটা আশায় আইসিসি। গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি আশা প্রকাশ করেছে, সরকারের সিদ্ধান্ত বদলে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাকিস্তান। একই সঙ্গে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তা না হলে পাকিস্তান ক্রিকেটকেও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।
তবে ভারত ও জয় শাহের প্রভাব খাটিয়ে আইসিসিকে চাপে রাখার এই সুযোগ সহজে ছাড়তে চায় না পাকিস্তান। পাশাপাশি বাংলাদেশের দাবি না মানার বিরুদ্ধে এটিকে কৌশলগত প্রতিবাদ হিসেবেও দেখছে ইসলামাবাদ। ক্রিকেটের মাঠ ছাড়িয়ে এই দ্বন্দ্ব এখন রীতিমতো রাজনীতি ও অর্থনীতির জটিল সমীকরণে রূপ নিয়েছে।



