ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছিল ভারত। তবে টি-টোয়েন্টিতে সূর্যকুমার যাদবের দলই দাপট দেখাল। সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ২৭১ রানের বড় পুঁজি গড়ার পর কিউইদের হারাল ৪৬ রানে। ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করার দিনে ইতিহাস গড়েছে ভারত। এ নিয়ে চারবার তারা ফরম্যাটটিতে আড়াইশ’র বেশি রান সংগ্রহ করল।
এতদিন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক আড়াইশ পেরোনোর রেকর্ড ছিল দুই দলের। যৌথভাবে ভারত ও জিম্বাবুয়ে তিনবার করে ওই কীর্তি গড়ে। গতকাল (শনিবার) সবাইকে ছাড়িয়ে গেল ভারত। টি-টোয়েন্টিতে তাদের সর্বোচ্চ দলীয় পুঁজি ২৯৭, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে তারা ওই রেকর্ড গড়ে। এ ছাড়া একই বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৮৩, গতকাল কিউইদের সঙ্গে ২৭১ এবং ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৬০ রান করেছিল ভারত।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ডটা জিম্বাবুয়ের দখলে। গাম্বিয়ার বিপক্ষে ৩৪৪ রান করেছিল সিকান্দার রাজার দল। এ ছাড়া সিসিলিসের বিপক্ষে ২৮৬ এবং বোতসোয়ানার বিপক্ষে ২৫৯ রান করার কীর্তি আছে তাদের। তবে পূর্ণ সদস্য দেশের হিসেবে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটটিতে সর্বোচ্চ রান করেছে ইংল্যান্ড। গত বছর তারা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটি ম্যাচে ৩০৪ রান তুলেছিল। এখন পর্যন্ত দু’বার আড়াইশ পেরোনো ইনিংস খেলেছে ইংলিশরা। সমান দুটি করে আড়াইশ আছে চেক রিপাবলিক, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জাপানের।
গতকালের ম্যাচে ভারতীয় ব্যাটাররা ২৩টি ছক্কা হাঁকিয়েছে। যা যৌথভাবে কোনো পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে টি-টোয়েন্টি ইনিংসের সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাও জোবার্গে ভারতের বিপক্ষে সমান সংখ্যক ছয় মেরেছিল। এ ছাড়া কিউইদের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত সিরিজে সবমিলিয়ে ৬৯ ছক্কা হাঁকিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ল ভারত। কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজে এটি সর্বোচ্চ ছয়। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ড এবং একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সমান ৬৪ ছয় মেরেছিল পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে।
কিউইদের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিতে এক ওভারে ২২ রান খরচ করেন জাসপ্রিত বুমরাহ। যা ভারতীয় এই তারকার এক ওভারে সর্বোচ্চ রান খরচের রেকর্ড। এ ছাড়া এদিন টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম তিন হাজার রান করার কীর্তি গড়েন দলটির অধিনায়ক সূর্যকুমার। এক্ষেত্রে তার লেগেছে ১৮২২ বল। সূর্যকুমারের আগে ১৯৪৭ বলে ৩০০০ রান করেছিলেন আরব আমিরাতের অধিনায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম। দুই দল মিলিয়ে এদিন ৪৯৬ রান তোলে, যা নির্দিষ্ট টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের এগ্রিগেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে ৫১৭ রান উঠেছিল।
এ ছাড়া টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেট পাওয়া বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান খরচের রেকর্ড গড়লেন ভারতীয় পেসার আর্শদীপ সিং। ৫১ রানের বিনিময়ে তিনি ফাইফার পেয়েছেন। এর আগে ক্যারিবীয় পেসার আলজারি জোসেফ ফাইফার পূর্ণ করার পথে সর্বোচ্চ ৪০ রান খরচ করেন।



