নারী এশিয়ান কাপে কি ইতি টানছে সাবিনার অধ্যায়?
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
মেয়েদের সাফের প্রথম শিরোপা এসেছিল তাঁর নেতৃত্বেই। কদিন আগেই থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করাতেও ছিল তাঁর বড় অবদান। টুর্নামেন্টজুড়ে সর্বোচ্চ ১৪ গোল করে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন সাবিনা খাতুন। তবু বিস্ময়করভাবে প্রথমবারের মতো মেয়েদের এশিয়ান কাপের প্রাথমিক দলে জায়গা হয়নি এই তারকা ফুটবলারের।
সদ্য সমাপ্ত সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে দেশে ফেরার পর পরশু হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে নারী দলকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাবিনার অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য আরও বিস্তৃত করে সাফ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় নারী দল বিশেষ অভিনন্দনের দাবিদার। ফুটবল ও ফুটসাল—দুটি ভিন্ন ফরম্যাটে দলকে শিরোপা এনে দেওয়া একমাত্র বাংলাদেশি ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে সাবিনাকে নিয়ে গর্বের কথাও জানান তিনি।
কিন্তু এই গর্বের মুহূর্তের মাঝেই বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। থাইল্যান্ড থেকে দলের দেশে ফেরার আগেই নারী এশিয়ান কাপের জন্য ২৯ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেন কোচ পিটার বাটলার। সেই দলে সাবিনার নাম নেই। শুধু তিনি নন, বাদ পড়েছেন মাসুরা পারভীন, কৃষ্ণা রানী সরকার, সানজিদা আক্তার, নিলুফা ইয়াসমিন ও মাতসুশিমা সুমাইয়ার মতো অভিজ্ঞরাও। প্রাথমিক দলে না থাকা মানেই, কোচের পরিকল্পনায় তাঁদের জায়গা নেই।
দল ঘোষণার পর থেকেই আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে এক প্রশ্নকে ঘিরে—তাহলে কি এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে তাঁদের ফুটবল ক্যারিয়ার? বিশেষ করে সাবিনার বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন বেশি। অনেকেই যুক্তি দেন, ফুটসাল খেলতে ফুটবলের চেয়ে বেশি ফিটনেস ও গতি প্রয়োজন। যদি সেটাই সত্য হয়, তাহলে সদ্য শেষ হওয়া টুর্নামেন্টে সাবিনা তো ফর্ম ও ফিটনেস—দুটোরই জোরালো প্রমাণ দিয়েছেন। ১৪ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়াই তার বড় উদাহরণ।
ফিটনেস ও গোল করার ক্ষমতার বাইরেও সাবিনার বড় শক্তি তাঁর অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতারই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল ১ মার্চ শুরু হতে যাওয়া মেয়েদের এশিয়ান কাপে। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান। বিশেষ করে নারী ফুটবলের দুই পরাশক্তি চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে খেলতে সাবিনার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দলে থাকাটা ছিল সময়ের দাবি। কিন্তু পিটার বাটলারের পরিকল্পনায় তিনি নেই—এটা এখন স্পষ্ট।
দুদিন আগে ঘোষিত প্রাথমিক দলে সাবিনাকে না রেখে কোচ বাটলার যেন আবারও বুঝিয়ে দিলেন, যত দিন তিনি দায়িত্বে আছেন, সাবিনার জন্য জাতীয় দলে ফেরার দরজা বন্ধ। ফুটবলের অন্দরমহলে বিষয়টি অবশ্য নতুন নয়। গত বছরের ৩০ জানুয়ারি মেয়েদের সাফ জয়ের পর সাবিনা, মাসুরা ও মাতসুশিমা সুমাইয়াসহ ১৮ জন নারী ফুটবলার কোচ বাটলারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। ‘বডি শেমিং’-এর মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছিল।
পরবর্তী সময়ে নানা বাস্তবতায় মনিকা, ঋতুপর্ণা, মান্দা, রুপনা, তহুরা ও শামসুন্নাহাররা দলে ফিরলেও সাবিনা, কৃষ্ণা ও সানজিদাদের ভাগ্যে জোটেনি সেই সুযোগ। এবার এশিয়ান কাপের প্রাথমিক দলেও তাঁদের উপেক্ষিত থাকাটা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—এই উপেক্ষা কি শুধু একটি ‘যতি’ বা ‘কমা’, নাকি সাবিনা খাতুনদের ফুটবল ক্যারিয়ারে সত্যিই পড়ে গেল একটি স্থায়ী ‘দাঁড়ি’?



