Logo
Logo
×

খেলা

আল-জাজিরার নিবন্ধ

ভারত–আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাকিস্তান কেন বাংলাদেশের পাশে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

ভারত–আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাকিস্তান কেন বাংলাদেশের পাশে

ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ভারতের ভেন্যুতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরে ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ জানালেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্রিকেট বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টে নিজেদের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে পাকিস্তানও।

গত বছরের জুনে বাংলাদেশ আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছিল। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে আইসিসির সঙ্গে নিরাপত্তা ও ভেন্যু ইস্যুতে মতবিরোধ চলার পর গত শনিবার বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার করা হয়। বাংলাদেশের পরিবর্তে পরবর্তী সেরা র‍্যাঙ্কিংধারী দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আইসিসির বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের মতে, কেবল লজিস্টিক বা নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কারণে একটি পূর্ণ সদস্য দেশকে বাদ দেওয়া নজিরবিহীন। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানায়, তারা আগামী সপ্তাহের আগে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না।

পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর তিনি সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নকভি লেখেন, “শুক্রবার অথবা পরবর্তী সোমবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” উল্লেখ্য, নকভি বর্তমানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন।

ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে পাকিস্তানের সব ম্যাচ আগেই শ্রীলঙ্কায় নির্ধারিত ছিল। এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় প্রায় তিন সপ্তাহ আগে, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের ভেন্যুতে নির্ধারিত নিজেদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায়। খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে এই দাবি করা হয়।

এর আগে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে হঠাৎ আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা বিসিসিআইয়ের নির্দেশেই হয়েছে বলে জানানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের অবনতির প্রতিফলনই এসব ঘটনায় ফুটে উঠেছে।

বাংলাদেশের যুক্তি ছিল, যদি একজন খেলোয়াড় ভারতে নিরাপদ না থাকেন, তাহলে পুরো দলকে ঝুঁকিতে ফেলা যায় না। তবে আইসিসি দাবি করে, বাংলাদেশের জন্য কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য’ বা ‘যাচাইযোগ্য’ নিরাপত্তা হুমকি নেই। বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হলেও সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম আইসিসির বিরুদ্ধে ‘ভণ্ডামি’র অভিযোগ তোলেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভেন্যুর সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই অনুরোধ অগ্রাহ্য করা হয়েছে। গত সপ্তাহে আইসিসি বোর্ড সভায় বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে অবস্থান নেয় পাকিস্তান।

ক্রিকেটের এই সংকটের পেছনে গভীর রাজনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে। ভারতের বিপুল আর্থিক প্রভাব আইসিসির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট প্রধান মহসিন নকভি বলেন, এক দেশের জন্য এক নিয়ম আর অন্য দেশের জন্য ভিন্ন নিয়ম হতে পারে না। বাংলাদেশের সঙ্গে অবিচার হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আইসিসি ও পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানি সতর্ক করে বলেছেন, খেলাধুলায় রাজনীতি ঢুকে পড়লে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই অনিশ্চয়তা পাকিস্তানের প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলছে। ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ খেলার কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান মাঠে নামবে কি না, সে সিদ্ধান্ত এখনো ঝুলে আছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন