ভারতে খেলবে না বাংলাদেশ, আইসিসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিসিবি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২০ পিএম
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দিন-রাত যেন একাকার হয়ে গেছে। বিভিন্ন টাইম জোনে থাকা ক্রিকেট বোর্ডগুলোর নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সারা রাত যোগাযোগ রাখতে হচ্ছে তাঁকে। লক্ষ্য একটাই—বাংলাদেশের দাবির পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করা।
গত বছরের মে মাসে বিসিবি সভাপতি হওয়ার আগে দীর্ঘদিন আইসিসিতে কাজ করেছেন বুলবুল। সেই অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে সমমনা পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন তিনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবিতে সমর্থন যত বাড়বে, আইসিসি তথা ভারতের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান উপেক্ষা করা তত কঠিন হবে—এমনটাই আশা বিসিবির। চলছে টানা ক্রিকেট কূটনীতি।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, আজকের মধ্যেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বিষয়ে আইসিসির সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো ডেডলাইনের কথা জানে না বিসিবি।
এদিকে বাংলাদেশের অবস্থানের পক্ষে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে পাকিস্তান। বিষয়টি নিয়ে গতকালও কথা বলেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সচিবালয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করেছে—এমন নজির আছে। বাংলাদেশের দাবিও যৌক্তিক। অযৌক্তিক চাপ দিয়ে ভারতে খেলতে বাধ্য করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আইসিসি যদি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের চাপে বাংলাদেশের ওপর অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দেয়, সরকার তা মানবে না।
আইসিসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় উদ্বেগে দিন কাটছে বিসিবির পাশাপাশি জাতীয় দলের ক্রিকেটারদেরও। অনিশ্চয়তার কথা প্রকাশ করেছেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস। তাঁর ভাষায়, বিশ্বকাপে যাওয়ার জন্য নির্বাচিত ১৫ জন ক্রিকেটার এখনো জানেন না, তারা কোন দেশে খেলবেন বা কাদের বিপক্ষে মাঠে নামবেন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিসিবির সঙ্গে আরেক দফা নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠকে বসতে চায় আইসিসি। ভারতে সর্বোচ্চ ‘জেড’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তাবও এসেছে। তবে বিসিবি কোনোভাবেই ভারতে খেলতে রাজি নয়।
বিসিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দুবাইয়ে আইসিসির সদর দপ্তরের কর্মীদের বড় অংশই ভারতীয়। চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ শীর্ষ পদগুলোতেও ভারতীয়দের আধিপত্য রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের প্রভাব অস্বীকার করা কঠিন। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এমন পরিস্থিতিতে আইনি পথ খোলা রাখছে বিসিবি। আইসিসির সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে গেলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত সিএএসে যাওয়ার চিন্তাও আছে। বিসিবির এক পরিচালকের কথায়, ‘প্রতিকূল পরিবেশে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের চেয়ে আমরা আমাদের দেশকে বেশি ভালোবাসি।’



