আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ায় বিসিসিআইকে ধুয়ে দিলেন কীর্তি আজাদ
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
নতুন বছরের শুরুতেই এমন অভিজ্ঞতার মুখে পড়বেন, তা হয়তো কল্পনাও করেননি মোস্তাফিজুর রহমান। ২০২৬ আইপিএল সামনে রেখে নিলামে রেকর্ড দামে দল পাওয়া এই বাঁহাতি পেসারকে মাত্র ২০ দিনের মাথায় দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার কীর্তি আজাদ।
২০২৬ আইপিএলের নিলামের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মোস্তাফিজসহ সাত বাংলাদেশি ক্রিকেটারের নাম ছিল। সেখান থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজকে দলে নিলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে কীর্তি আজাদ বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) বলেন, নিলামের পুল তৈরি করেছে বিসিসিআই নিজেই। সেখানে সাতজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের নাম থাকা সত্ত্বেও মোস্তাফিজকে কেন নেওয়া হলো এবং পরে কেন বাদ দেওয়া হলো, সেটি তার বোধগম্য নয়।
কীর্তি বলেন, কলকাতার বোলিং আক্রমণ তুলনামূলক দুর্বল থাকায় তারা মোস্তাফিজকে দলে নেয়। আইপিএলে তার অভিজ্ঞতা ও পরিসংখ্যানও উল্লেখ করেন তিনি। অথচ নিলাম থেকে নেওয়ার পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দেখিয়ে তাকে বাদ দেওয়াটা অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন এই সাবেক ক্রিকেটার।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ। শেষ পর্যন্ত সেই চাপের মধ্যেই কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেয়।
বাংলাদেশ-ভারত রাজনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান শীতলতার প্রসঙ্গ টেনে কীর্তি আজাদ বলেন, যদি রাজনৈতিক কারণে সমস্যা থেকেই থাকে, তাহলে শুরুতেই তার নাম নিলামের তালিকায় রাখা হলো কেন। একবার দলে নেওয়ার পর তাকে বাদ দেওয়ার দায় বিসিসিআইয়েরই নেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে অতীতের বিভিন্ন বিতর্কের কথাও উল্লেখ করেন কীর্তি। ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক উত্তেজনা, এশিয়া কাপে করমর্দন না করা, আবার আন্তর্জাতিক আসরে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদির সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট কর্তাদের একসঙ্গে খেলা দেখার ঘটনাকে তিনি দ্বিচারিতা হিসেবে তুলে ধরেন।
গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত আইপিএল নিলাম থেকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। তবে রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত তার নাম দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এতে কলকাতা নাইট রাইডার্স অন্য একজন বিকল্প ক্রিকেটার নেওয়ার সুযোগ পায়।



