Logo
Logo
×

খেলা

১৭৯ রানের বিশাল জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

Icon

অনলাইন ডেস্ক :

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:০৫ পিএম

১৭৯ রানের বিশাল জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

ছবি : সংগৃহীত

ব্যাট হাতে এবার লড়াই জমাতে পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের স্পিনারদের সামনে তারা হয়ে পড়লেন অসহায়। ক্যারিবীয়দের রেকর্ড ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিল টাইগাররা।

মিরপুরে বৃহস্পতিবার সিরিজ নির্ধরণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭৯ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ২৯৭ রানের লক্ষ্যে ১১৭ রানে গুটিয়ে যায় উইন্ডিজ।

ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে রানের হিসাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয় এটি। রানের দিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের সবচেয়ে বড় ছিল খুলনায়। ২০১২ সালে ১৬০ রানে জিতছিল স্বাগতিকরা।

সব মিলিয়ে ওয়ানডেতে রানের হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়টা ১৮৩ রানের। ২০২৩ সালে সিলেটে আয়ারল্যান্ডকে এই ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের চার স্পিনার ভাগ করে নিয়েছেন উইন্ডিজের ১০ উইকেট। তিনটি করে নিয়েছেন নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন, দুটি করে তানভীর ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজ।

তিন ম্যাচের সিরিজ স্বাগতিকরা জিতে নিল ২-১ ব্যবধানে।

বাংলাদেশের উইকেট উদযাপনের শুরুটা করেন নাসুম, দলীয় পঞ্চম ওভারে। আলিক আথানেজেকে (২১ বলে ১৫) এলবিডব্লিউয়ের ফাদে ফেলেন তিনি। নিজের পরের ওভারে একই আউটে আকিম অগাস্টিকে রানের খাতা খুলতে দেননি নাসুম। নিজের টানা তৃতীয় ওভারে আরেক ওপেনার ব্রান্ডন কিংকে (১৭ বলে ১৮) বোল্ড করে দেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

এবার প্রতিরোধ গড়তে পারেননি শাই হোপও (৪)। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে তাকে সহজ ক্যাচ বানান তানভীর।

নিজের চতুর্থ ওভারে প্রথম সাফল্য পান রিশাদ। উইন্ডিজের পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে তিনি ফেরান শেরফান রাদারফোর্ডকে। একই ওভারে রোস্টন চেইসকে মিড-অনে নাসুমের সহজ ক্যাচ বানান এই লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার।

সেই রেশ থাকতেই কেসি কার্টির লড়াইয়ের ইতি টানেন তানভীর। ৪৩ বলে ১৫ রান করে কাভার পয়েন্টে ক্যাচ দেন কার্টি। ৬৭ রানে সপ্তম উইকেট হারানো ক্যারিবীয়রা ৮৪ রানের হারায় অষ্টম উইকেট। গুড়াকেশ মোতিকে এলবিডব্লু করে নিজের তৃতীয় শিকার ধরেন রিশাদ।

জাস্টিন গ্রিভসকে উইকেটকিপার নুরুল হাসানের ক্যাচ বানিয়ে বাংলাদেশকে নবম উইকেট এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এরপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন আকিল হোসেন। রিশাদের এক ওভারে তিন চার ও ১ ছক্কায় নেন ২০ রান। আকিলকে বোল্ড করে দ্বিতীয় শিকার ধরেন মিরাজ। ১৫ বলে ২৭ রান করেন আকিল। ইনিংসে একমাত্র বিশোর্ধো ইনিংস তারই। উইন্ডিজ উটিয়ে যায় ৩০.১ ওভারে।

এর আগে টস জিতে সৌম্য সরকার আর সাইফ হাসানের রেকর্ড গড়া ওপেনিং জুটিতে বড় পুঁজি পায় বাংলাদেশ। যে মাঠে আগের দুই ম্যাচে রানের জন্য হাপিত্যেস করেছে ব্যাটাররা, সেই মাঠেই এবার ২৫ ওভারে ১৭৬ রানের ওপেনিংস জুটি গড়েন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। দুজনই আউট হয়েছেন সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে। পরের ২৫ ওভারে বাংলাদেশ তুলতে পারে ৮ উইকেটে ১২০।

৪৪ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি করা সাইফ আউট হন ৭২ বলে ৬টি করে ছক্কা-চারে ৮০ রান করে। সৌম্য করেন ৮৬ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৯১ রান।

ওয়ানডেতে দুজন গড়েন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি। তবে উইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ জুটি ২৯২ রানের, ২০২০ সালে সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লিটন দাস ও তামিম ইকবালের।

২০২৩ সালের মার্চের পর এই প্রথম ওয়ানডে ওপেনিং জুটি থেকে শতরান পেল বাংলাদেশ। সিলেটে সেই ম্যাচেও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১০২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছিলেন তামিম ও লিটন।

সব দল মিলিয়ে ২০১৫ সালে ১১ নভেম্বরের পর মিরপুরে ওয়ানডেতে এটাই সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি। ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ১৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন বাংলাদেশের তামিম ও ইমরুল কায়েস।

দলীয় ১৭৬ রানে সাইফ ফিরতেই ভাটা পড়ে রানের গতিতে। লম্বা সময় উইকেটে থেকেও সুবিধা নিতে পারেননি তাওহীদ হৃদয়। উইকেটে ধুঁকতে থাকা এই টপ অর্ডারের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ বলে ২৮ রান।

৫ রানের ব্যবধানে দুজনের বিদায়ের পর নাজমুল হোসেন শান্ত ও হৃদয় স্কোরটাকে নিয়ে যান ২৩১ রানে।

শান্তরও শুরুটা ধীর হলেও পুষিয়ে দেওয়ার পথেই ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি আউট হন ৫৫ বলে ৩ ছক্কায় ৪৪ রান করে।

শান্তর ফেরার মধ্য দিয়ে দ্রুত ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এর ৩টিই ৪৬তম ওভারে নিয়েছেন আকিল হোসেন। সেখান থেকে ২৪ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়েন নুরুল ও মিরাজ। তিনশ’র কাছে যায় দল।

আকিল নেন ৪১ রানে ৪ উইকেট।

আগামী সোমবার শুরু দুই দলের মধ্যকার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯৬/৮ (সাইফ ৮০, সৌম্য ৯১, হৃদয় ২৮, শান্ত ৪৪, মাহিদুল ৬, রিশাদ ৩, নাসুম ১, সোহান ১৬*, মিরাজ ১৭; আকিল ১০-১-৪১-৪, চেইস ৮-১-৫৩-১, পিয়ের ১০-০-৪৬-০, গ্রেভস ৭-০-৬১-০, মোটি ৮-০-৫৩-১, আথানেজ ৭-০-৩৭-২)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩০.১ ওভারে ১১৭ (আথানেজ ১৫, কিং ১৮, ওগিস ০, কার্টি ৩৫, হোপ ৪, রাদারফোর্ড ১২, চেইস ০, গ্রেভস ১৫, মোটি ৭, আকিল ২৭, পিয়ের ০; নাসুম ৬-১-১১-৩, মিরাজ ৭.১-০-৩৫-২, তানভির ৮-০-১৬-২, রিশাদ ৯-০-৫৪-৩)।

ফল: বাংলাদেশ ১৭৯ রানে জয়ী।

সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: সৌম্য সরকার।

ম্যান অব দা সিরিজ: রিশাদ হোসেন।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন