ছবি - অস্ট্রেলিয়ার পেসার জন হ্যাস্টিংস
ব্যাটসম্যান শোয়েব মাকসুদকেই বেশি বিরক্ত মনে হলো! প্রতিবার বড় শট খেলার জন্য প্রস্তুতি নেন কিন্তু বল ব্যাটে আসে না। অস্ট্রেলিয়ার পেসার জন হ্যাস্টিংসের ডেলিভারিগুলো যে ওয়াইড দাগের বাইরে! মাকসুদের কষ্ট অবশ্য ওপেনার শারজিল খান কিছুটা ভাগ করে নিয়েছেন। মানে কয়েকটি বল খেলেছেন; কিন্তু আম্পায়ার?
একে একে মোট ১২ বার দুই হাত প্রসারিত করতে হলো তাকে! এমনকি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ব্রেট লিও হাতে নিজের মুখ লুকিয়েছিলেন। কাল সবাইকে এমন অভিজ্ঞতাই উপহার দিয়েছেন হ্যাস্টিংস। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সব সংস্করণ মিলিয়ে ৩৯ ম্যাচ খেলা এই পেসারের মনে কী চলেছে কে জানে!
ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে কাল এক ওভার করতে গিয়ে মোট ১৮টি বল করেছেন হ্যাস্টিংস। এর মধ্যে ১২টি ওয়াইড ও ১টি নো বল। হ্যাস্টিংস ওভারটি শেষ করতে পারেননি। ওভারের শেষ বলটি করতে গিয়ে ওয়াইড দিয়েছেন ৫টি, যার শেষটি ছিল পাকিস্তানের জয়সূচক রান। ১০ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান।
যেভাবে ওভার শুরু করেন হ্যাস্টিংস
অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৭৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করছিল পাকিস্তান। ৭ ওভারে বিনা উইকেটে পাকিস্তানের রান যখন ৫৫ রান, তখন ‘ইমপ্যাক্ট’ খেলোয়াড় হ্যাস্টিংসকে ওভারে আনেন লি।
বল হাতে শুরুতেই হ্যাস্টিংস দেন ৫টি টানা ওয়াইড। এরপর দুটি বৈধ বল— একটি সিঙ্গেল, একটি চার। এরপর এক নো বল, যেটি ছিল আবার ওয়াইড। ওভারের শেষদিকে তিনি দুই দিক থেকে বল করে (ওভার ও রাউন্ড দ্য উইকেট) বারবার লাইন মিস করেন। শেষ পাঁচটি বল ছিল টানা ওয়াইড, যার মধ্যে কিছু বল তো প্রায় পিচের বাইরেই পড়ে।
এ ছাড়া শোয়েব তার দুটো বৈধ ডেলিভারি থেকে দুই রান নিয়েছেন। ছেড়ে দিলে ওই দুটোও ওয়াইডই হতো। ওয়াইডের কারণে আলোচিত এই ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন সাঈদ আজমল। তিনি নিয়েছেন ১৬ রানে ৬ উইকেট।
১০ উইকেটে হারের পরও সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে অস্ট্রেলিয়া। পরবর্তী ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার, যে দলের নেতৃত্বে আছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।



