চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
রাত হলেই গুলিস্তান-সাইনবোর্ড রুটে তীব্র বাস সংকট
আরাফাত হোসেন, ঢাকা
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
গুলিস্থানে বাসের অপেক্ষায় দাড়িঁয়ে যাত্রীরা
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ গুলিস্তান- সাইনবোর্ড রুটে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই গণপরিবহন সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এই রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বাসের সংখ্যা কম থাকায় তীব্র ভিড় ঠেলে বাসে ওঠা যেমন কষ্টকর হয়ে পড়েছে, তেমনি এই সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। ফলে নিয়মিত যাতায়াতকারী চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গুলিস্তান, পল্টন ও মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের প্রবেশমুখ ঘুরে দেখা গেছে, ঘড়ির কাঁটায় রাত ৮টা পার হতেই বাসের সংখ্যা কমতে শুরু করে। ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় তৈরি হলেও সেই তুলনায় বাসের দেখা মিলছে না। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের বন্ধন, উৎসব, আনন্দ কিংবা শিমরাইল-সাইনবোর্ডগামী কোনো বাস কাউন্টারে এলেই যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। গুলিস্তান থেকে শনিরআখড়া, রায়েরবাগ ও চিটাগং রুটে চলাচলকারী শ্রাবন, সময় বাসের ভাড়া ৪০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শ্রাবন বাস রাত হলেই সিটিংএ চলাচল করে। এতে যাত্রীদের হয়রানি দ্বিগুণ বেড়ে যায়।
অনেকেই মরিয়া হয়ে চলন্ত বাসে ওঠার চেষ্টা করতে দেখা গেছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, দিনের বেলা পর্যাপ্ত বাস থাকলেও রাত ৯টার পর অধিকাংশ বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের জিম্মি করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং লেগুনা চালকরা দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া দাবি করছে। আবার অনেক সময় কিছু দূরপাল্লার বাস বা লোকাল বাস খালি থাকলেও তারা অতিরিক্ত ভাড়ার চুক্তিতে যাত্রী নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করে।
রায়েরবাগের এক যাত্রী মাহমুদুল হাসান জানান, প্রতিদিন অফিস শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় এই একই ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। বাসে উঠতে না পেরে অনেকেই বাধ্য হয়ে ফ্লাইওভারের নিচে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছেন কিংবা বিকল্প উপায়ে বাড়তি টাকা খরচ করে গন্তব্যে ফিরছেন।
যাত্রী সাধারণের দাবি, গুলিস্তান থেকে সাইনবোর্ড ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে রাতের বেলা কর্মজীবী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে অবিলম্বে বাসের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি রাতের শিফটে বিআরটিসির (BRTC) বিশেষ বাস সার্ভিস চালু এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও বিআরটিএ-এর নিয়মিত তদারকি জরুরি।



