Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

মাওয়া ঘাটে ‘দ্বৈত টোল’ নিয়ে ক্ষোভ, পর্যটকদের বয়কটের ডাক

Icon

আরাফাত হোসেন, মুন্সীগঞ্জ থেকে ফিরে

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩২ এএম

মাওয়া ঘাটে ‘দ্বৈত টোল’ নিয়ে ক্ষোভ, পর্যটকদের বয়কটের ডাক

আধা কিলোমিটারের ব্যবধানে দুই দফা টোল আদায়

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া (শিমুলিয়া) ঘাটে মাত্র আধা কিলোমিটারের ব্যবধানে দুই দফা টোল আদায় এবং অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ দর্শনার্থীরা এটিকে ‘বৈধ চাঁদাবাজি’ ও হয়রানি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই চরম ক্ষোভের জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এখন মাওয়া ঘাট ‘বয়কট’ বা বর্জনের ডাক দিচ্ছেন।

অন্যদিকে পর্যটকদের অনাগ্রহে গত দুই সপ্তাহে ঘাট এলাকায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কমেছে বলে দাবি স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীদের। এতে ভাটা পড়েছে বাণিজ্যিক সব কার্যক্রমে।

পদ্মা পাড়ে আগত দর্শনার্থীদের অভিযোগ, পর্যটকদের বিআইডব্লিউটিএ লোগো সম্বলিত হলুদ ও আকাশী রঙের একটি টোকেন ধরিয়ে দিয়ে মোটরসাইকেল থেকে নেয়া হচ্ছে সর্বনিম্ন ৩০ টাকা করে দুইবারে ৬০ টাকা। আর প্রাইভেটকারসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন যানবাহন থেকে বিনা রশিদের মাধ্যমে শুধু গাড়ির নম্বর নোট করেই নেয়া হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে দুইশ-আড়াইশো কিংবা তিনশো টাকা পর্যন্ত।

এ সময় দেখা গেছে, অনেক যানবাহন চালক টাকা আদায়ের রশিদ দিতে বাধ্য করেছেন ঠিকাদার সংশ্লিষ্টদের। তবে আদায়কৃত অর্থের সমপরিমাণ টাকার সংখ্যা উল্লেখিত রশিদ দিতে পারেননি কেউ।

অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর রশিদের মাধ্যমে এসব টাকা তুলছেন স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি নয় এই চক্রের সদস্যরা। তাদের দাবি, ইজারাদার হাজী আলমগীরের নেতৃত্বে এসব টোল আদায় করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ এবং ঐতিহ্যবাহী ইলিশ খেতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ মাওয়া ঘাটে আসেন। তবে সম্প্রতি ঘাটের প্রবেশ মুখে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং স্থানীয় ইজারাদারদের মাধ্যমে কাছাকাছি দুটি স্থানে পৃথকভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে।মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন চালকরা। ফলে অতিরিক্ত অর্থদণ্ড ও হয়রানির কারণে ক্ষুব্ধ পর্যটকরা।

তবে বিআইডব্লিউটিএ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার বিনিময়ে শিমুলিয়া ঘাটটি  ইজারা দেয়া হয়েছে আলমগীর হোসেন নামের স্থানীয় এক ঠিকাদারকে। এরপর থেকেই দৈনদশা দেখা দিয়েছে ঘাট এলাকায়। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত টোলের কারণে যদি পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নেন, তাহলে শুধু ব্যবসা নয়, শিমুলিয়া ঘাটের পর্যটন সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এই ঘাট এড়িয়ে চলছেন, যার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে।টোলের বিষয়টি স্বীকার করে লৌহজং উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিআইডব্লিউটিএ নতুন রাস্তার জন্য এই ইজারা দিয়েছে। তবে এত কাছাকাছি দুটি টোল প্লাজা থাকা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও অতিষ্ঠ করছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এই দ্বৈত টোল ব্যবস্থা দ্রুত বাতিলের জন্য তারা বিআইডব্লিউটিএ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন