বাক স্বাধীনতার পাশাপাশি বাক সংযম থাকা উচিত: মেজর জেনারেল (অবঃ) মোঃ এমদাদ উল বারী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
সমাজে যা ঘটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার একাংশ প্রতিফলিত হয়। এই মাধ্যমের অপব্যবহার একটি জটিল ও যৌগিক সমস্যা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার কখনো কখনো নিষ্ঠুরতার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ফেসবুক এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যা অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। এর মূল শক্তি হচ্ছে সারাবিশ্বে তাৎক্ষনিক সংযোগ স্থাপন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি। বাক স্বাধীনতার পাশাপাশি বাক সংযমও থাকা উচিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অপরাধীরা ব্যক্তির মানহানি, আর্থিক প্রতারণা, ঘৃণা ও সহিংসতায় উস্কানি দিয়ে থাকে। ডেসটিনি, ইভ্যালি’র মতো অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে আর্থিক প্রতারণা করেছে। অনলাইন জুয়ার টাকা লেনদেনের মাধ্যম চিহ্নিত করা গেলে অপরাধীদের সনাক্ত করা সহজ হবে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া জুয়া প্রতিরোধ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। গত বছর বিটিআরসি ২৬ হাজার অনলাইন জুয়া সাইট বন্ধ করেছে এবং ২০ হাজার ঘৃণিত বক্তব্য বিভিন্ন সাইট থেকে অপসারণ করেছে। আজ (১১ জুলাই ২০২৬, শনিবার) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কপোর্রেশনে (এফডিসি) সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধিতে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) মোঃ এমদাদ উল বারী, এসব কথা বলেন। সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে কিছু কিছু অসাধুচক্র ও গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারে লিপ্ত রয়েছে। মিথ্যা, গুজব ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধমীর্য় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করছে এসব অসাধুচক্র। তাদের এসব হটকারি কনটেন্টের কারণে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, গণপিটুনি, ভাংচুর, রক্তপাত এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক শ্রেণির মানুষ যে ভাষা ব্যবহার করে তা অত্যন্ত জঘন্য, নোংরা, নিকৃষ্ট ও অরুচিকর। এসব মুখেও আনা যায় না। বর্তমানে কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ওয়েব সিরিজের নামে নির্লজ্জতায় ভরা কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। অশ্লীলতায় ভরা এসব ওয়েব সিরিজে আসক্ত হয়ে তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আজেবাজে কনটেন্ট দেখার যে আসক্তি তৈরি হচ্ছে তা অত্যন্ত ভয়ানক। সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে হানিট্রাপে ফেলে বহু মানুষের জীবন, সংসার, ব্যবসা—বাণিজ্য, সামাজিক মর্যাদা ছারখার করে দেয়া হচ্ছে। দেশে অনলাইন জুয়ার আসক্তি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এতে লাখ লাখ মানুষ মিথ্যা লোভে পড়ে টাকা পয়সা খুইয়ে নিঃস্ব হচ্ছে।
জনাব কিরণ আরো বলেন, ভিউ বাণিজ্যের লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে এসব মিথ্যা, গুজব, অপতথ্য, নোংরা, অরুচিকর কনটেন্ট বন্ধে বিটিআরসিকে আরো কঠোর হতে হবে। রেগুলেটরি বডি হিসেবে বিটিআরসির সাথে নাগরিকদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ সীমিত। সুশাসন, উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহার নিয়ে বিটিআরসি নাগরিক সংলাপের আয়োজন করতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের কারণে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে” শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, রোকেয়া পারভীন জুই, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক সমীর কুমার দে ও সাংবাদিক মনির মিল্লাত। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।



