অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গে কড়াকড়ি, সীমান্তে নতুন উত্তেজনার শঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
পশ্চিমবঙ্গে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় না থাকা অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। পরে বিএসএফ ও বিজিবির সমন্বয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।
দিল্লির একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে ভারতের অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত ও বহিষ্কার। বিশ্লেষকদের ধারণা, সেই নীতির বাস্তব প্রয়োগ পশ্চিমবঙ্গ থেকেই শুরু হতে পারে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এবং যেসব এলাকায় এখনো কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শেষ হয়নি, তা দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমিও হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, তাদের অনেককে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) কার্যকরের আশঙ্কায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বাদ পড়া অনেক ভোটার ইতোমধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, অবৈধ অভিবাসী বিতাড়নের নামে সীমান্তে পুশব্যাকের চেষ্টা হলে তা বাংলাদেশে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে এবং ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। যদিও ভারত সরকার এবার সরাসরি পুশব্যাকের পরিবর্তে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহিষ্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেছেন, অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়লে তা বাংলাদেশের জন্য চাপ তৈরি করবে। তবে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলে ভারত একতরফা পদক্ষেপ নেবে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক আইনের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে ফেরত পাঠানো উচিত নয়। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে দ্রুত সংলাপ শুরুরও আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে সম্প্রতি হেমন্ত বিশ্ব শর্মার পুশব্যাক সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন রাতের অন্ধকারে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সীমান্তে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। এ মন্তব্যে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে চীন, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করলেও প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়লে তা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন সংকটে ফেলবে, নাকি আলোচনার পথ খুলে দেবে—তা এখন সময়ই বলে দেবে।



