সফর অবস্থায় সুন্নত নামাজ পড়া যাবে না—এ ধারণা সঠিক নয়। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, মুসাফির চাইলে ফরজ নামাজ কসর করার পাশাপাশি সুন্নতে মুআক্কাদা নামাজও আদায় করতে পারেন। তবে সফরের ব্যস্ততা, তাড়াহুড়ো বা ক্লান্তির কারণে সুন্নতে মুআক্কাদা না পড়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুন্নত ছেড়ে দেওয়ার কারণে গুনাহ হবে না।
তবে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মুসাফিরের জন্য সুন্নতে মুআক্কাদা নামাজ আদায় করাই উত্তম বলে আলেমরা উল্লেখ করেছেন।
এ বিষয়ে ইবনে জুরাইজ (রহ.)-এর বর্ণনায় এসেছে, তিনি আতা (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, সফরে থাকলে এবং নামাজ কসর করে পড়লে ফরজের আগে বা পরে সুন্নত নামাজ পড়া যাবে কি না। জবাবে আতা (রহ.) বলেন, হ্যাঁ, পড়া যাবে। তিনি জানান, তিনি যেমন সফরে নামাজ কসর করার ক্ষেত্রে শরিয়তের দেওয়া ছাড় গ্রহণ করেন, তেমনি অধিক কল্যাণের আশায় সুন্নত নামাজও আদায় করেন।
এই বর্ণনাটি মুসান্নাফে আবদুর রাযযাকের ৪৪৫২ নম্বর হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।
অর্থাৎ, সফরে ফরজ নামাজ কসর করা এবং সুন্নত নামাজ আদায় করা—দুটি বিষয় পরস্পর বিরোধী নয়। মুসাফিরের জন্য কসর করা শরিয়তের বিশেষ বিধান হলেও সুন্নত নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে এমন নিষেধাজ্ঞা নেই যে তা পড়া যাবে না।
তবে সফরের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সুন্নতে মুআক্কাদা আদায় করা বা না করার সুযোগ রয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় সুযোগ থাকলে সুন্নত নামাজ আদায় করাই উত্তম।
এ বিষয়ে জামে তিরমিযী, আলমাবসূত, আততাজনীস ওয়াল মাযীদ, মাজমাউল আনহুর, শরহুল মুনইয়া ও রদ্দুল মুহতারসহ বিভিন্ন ফিকহের গ্রন্থে আলোচনা পাওয়া যায়।
সুতরাং, ‘সফর অবস্থায় সুন্নত নামাজ পড়া যায় না’—এ ধারণা সঠিক নয়। বরং মুসাফির চাইলে সুন্নত নামাজ আদায় করতে পারেন এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তা আদায় করাই উত্তম।
সূত্র: আলকাউসার



