রমজান নেক আমলের বসন্তের মাস। রমজানুল মুবারকের পুরো এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে পয়লা শাওয়াল তথা ঈদুল ফিতর। ঈদ মুসলমানদের জন্য আনন্দ-উৎসব ও ক্ষমাপ্রাপ্তির দিন। এ আনন্দ আল্লাহর নেয়ামত প্রাপ্তির। মাগফিরাত প্রত্যাশার। আল্লাহর প্রতি সমর্পিত হওয়ার।
ঈদের দিন যেসব আমল সুন্নত তুলে ধরা হলো এখানে—
তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠা
এক মাস রোজা রাখার পর ঈদের আনন্দ আসে আমাদের জীবনে। এই দিনের বিশেষ আমল ঈদের নামাজ। ঈদের নামাজ পড়ার আগে ভোরে তাড়াতাড়ি উঠা উচিত এবং জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা উচিত।
গোসল করা
ঈদের দিন গোসল করে ঈদগাহে যাওয়া মুস্তাহাব। সাহাবায়ে কেরাম গোসল করে ঈদগাহে যেতেন। হযরত নাফে রাহ. বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে গোসল করে নিতেন। (মুয়াত্তা মালেক : ৪৮৮)।
মিষ্টি কিছু মুখে দিয়ে ঈদগাহে যাওয়া
ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে মিষ্টি কিছু খাওয়া সুন্নত। হজরত আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ঈদুল ফিতরে খেজুর না খেয়ে বের হতেন না। তিনি বেজোড় সংখ্যক খেজুর খেতেন। (বুখারী : ৯৫৩)।
ঈদ সালামি দেওয়া
বড়দের পক্ষ থেকে ছোটদের ঈদ সালামি দেওয়া হয়। বড়দের পক্ষ থেকে পাওয়া ঈদি শিশুদের আনন্দ বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। ইসলামের দৃষ্টিতে ঈদ সালামি দেওয়ার এই প্রচলনে কোনও আপত্তি বা ধর্মীয় বাধা-নিষেধ নেই। এটি একটি সুস্থ ও সুন্দর সামাজিক রীতি এবং চারিত্রিক সৌন্দর্য। এর মাধ্যমে ছোটদের প্রতি স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ঈদ সালামির মাধ্যমে ছোটরা আনন্দিত হয়। এতে তাদের ঈদের উৎসব আরও বেড়ে যায়। ঈদের দিন সকালে ছোটদের ঈদ সালামি দিন।
সদকাতুল ফিতর আদায় করা
রোজার মাধ্যমে রোজাদার কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে পেরেছেন সারাবছর অনাহারে থাকা মানুষের কষ্ট। অন্ন-বস্ত্রহীন ভাইদের কষ্ট। সাথে সাথে রোযা রাখতে গিয়ে যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে সেগুলো থেকে নিজেও যেন পুত পবিত্র হতে পারে। সেজন্য বিত্তবানদের উপর ওয়াজিব করা হয়েছে সদাকাতুল ফিতর।
হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূল (সা.) সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব করেছেন রোজাদারকে অর্থহীন ও অশ্লীল কথা কাজ থেকে পবিত্র করার জন্য এবং মিসকীনদের খাবারের ব্যবস্থা হিসাবে। যে (ঈদের) নামাযের পূর্বে তা আদায় করবে তা গ্রহণযোগ্য হবে। আর যে নামাযের পর আদায় করবে তা সাধারণ সদাকা হিসাবে বিবেচিত হবে। (আবু দাউদ : ১৬০৯)। তাই ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বেই সদাকাতুল ফিতর আদায় করে দেয়া মুস্তাহাব।
ঈদগাহে যাওয়ার পথে তাকবির দেওয়া
ঈদগাহে যাওয়ার পথে তাকবির দেওয়া সুন্নত। তাকবীর হল, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
নাফে রাহ. বলেন, ইবনে উমর রা. ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের সকালে সশব্দে তাকবীর বলতে বলতে ঈদগাহে যেতেন এবং ইমাম আসা পর্যন্ত তাকবীর বলতে থাকতেন। (সুনানে দারাকুতনী : ১৭১৬)।
এক রাস্তায় যাওয়া অন্য রাস্তায় ফেরা
সম্ভব হলে ঈদগাহে যাওয়ার সময় এক পথে যাওয়া আর ফেরার সময় ভিন্ন পথে আসা। নবীজী এমনটি করতেন। হযরত জাবের রা. বলেন, নবীজী ঈদের দিন এক পথ দিয়ে ঈদগাহে যেতেন আর ভিন্ন পথ দিয়ে ফিরতেন। (বুখারী : ৯৮৬)
প্রতিবেশী ও স্বজনদের খোঁজ-খবর নেওয়া
ঈদের আনন্দ সবার জন্য। আনন্দের মুহূর্তটিতে প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ রাখা উচিত। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রিজিক প্রশস্ত হওয়ার এবং আয়ু বৃদ্ধির আশা করে সে যেনো আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুনণ্ন রাখে। (বুখারি, হাদিস : ৫৯৮৬)
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়া
একজন মুমিনের জীবনের প্রতিটি আনন্দ আল্লাহ তায়ালা জন্য। এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আল্লাহ তায়ালা ঈদের আনন্দ দান করেছেন এই আনন্দের মূলে রয়েছে ঈদুল ফিতরের নামাজ। নামাজ শেষে সারাদিন আনন্দ উদযান করার সময় যেন দিনের অন্য নামাজের প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করা না হয় এবং ঠিকমতো সব নামাজ আদায় করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।



