ছবি : সংগৃহীত
আল্লাহর ঘর কাবা ও মদিনার সবুজ গম্বুজ মুসলিমদের হৃদয়ের গভীরতম স্বপ্ন ও শ্রদ্ধার প্রতীক। একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা হলো বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা এবং প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম জানানো। এই আবেগ ও ভালোবাসা থেকেই কেবলা ও কাবা ঘিরে মানুষের সংবেদনশীলতা অত্যন্ত প্রবল। সম্প্রতি এই সংবেদনশীলতার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি প্রশ্ন—কেবলার দিকে পা দেওয়া কি গোনাহের কাজ?
বিষয়টি নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কেউ একে হারাম বলছেন, আবার কেউ বলছেন এতে কোনো দোষ নেই। বিশেষ করে পশ্চিম দিকে পা দিয়ে বসা বা শোয়ার বিষয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।
বিশিষ্ট আলেমরা বলছেন, সম্মান প্রদর্শন একটি আপেক্ষিক বিষয়। কোনো সমাজে কোনো কিছুর দিকে পা রাখা অসম্মানজনক হলে, সে সমাজে কেবলার দিকে পা রাখা জায়েজ নয়। এমনকি ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে কেবলার দিকে পা রাখলে তা কুফরির পর্যায়ে পড়ে।
তবে কোরআন-হাদিসে কেবলার দিকে পা রাখাকে সরাসরি হারাম বলা হয়নি। ফলে একে ঢালাওভাবে নিষিদ্ধ বলা যায় না। তবে আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে কাবাকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা ফরজ। কোরআনে বলা হয়েছে, “আর যে কেউ আল্লাহর নিদর্শনগুলো প্রতি সম্মান প্রদর্শন করল, তা তো তার হৃদয়ের আল্লাহভীতিপ্রসূত।” (সুরা হজ : ৩২)
রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আব্দুর রহমান হোসাইনী বলেন, কোনো ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে কেবলার দিকে পা দেওয়া মাকরুহে তাহরিমি এবং গোনাহের কাজ। এমনকি ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কাবার দিকে পা ছড়িয়ে বসা ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে বা উদাসীনতার কারণে কেবলার দিকে পা দেওয়া হলে তা গোনাহ নয়, যদিও এটি আদববিরুদ্ধ কাজ হিসেবে বিবেচিত।
প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আহনাফদের মতে কেবলার দিকে পা দিয়ে বসা বা শোয়া মাকরুহ ও অনুচিত। কারণ নবীজি (সা.) কেবলার দিকে ফিরে পেশাব-পায়খানা করতে নিষেধ করেছেন, যা কেবলার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ। তবে সৌদি আলেমদের মতে, এতে কোনো সমস্যা নেই, কেননা কোরআন-হাদিসে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, যেহেতু এটি ইজতেহাদি বিষয়, তাই অধিকতর সতর্কতা ও সম্মান প্রদর্শনের খাতিরে কেবলার দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে পা না দেওয়াই উত্তম।



