Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিএনপির বিতর্কিত নেতাকর্মীদের তালিকা হচ্ছে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

বিএনপির বিতর্কিত নেতাকর্মীদের তালিকা হচ্ছে

দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে এবারের শুদ্ধি অভিযানের ‘লাইন অব অ্যাকশন’ আরও কঠোর। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা, অপরাধের ক্ষেত্রে পদ-পদবি বা রাজনৈতিক পরিচয় কোনো বিবেচ্য বিষয় হবে না। 

এরই মধ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থার আওতায় এসেছেন গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। সামনে আরও কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী ও দলীয় নেতার কর্মকাণ্ডও নজরদারিতে রয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তরের হাইপ্রোফাইল কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর রাত পোহাতেও খবর আসে পদত্যাগপত্র নিয়ে সংসদের পথে ছুটছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। দুপুরে যখন এ খবর গণমাধ্যমে আসে, তখন তা মুহূর্তেই টক অব দ্য কান্ট্রিতে রূপ নেয়। 

দলীয় শৃঙ্খলাসহ সরকার ও দলের ভাবমূর্তি সুরক্ষার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন কঠোর সিদ্ধান্তে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় নড়েচড়ে বসেন দলটির লাখ লাখ নেতাকর্মী। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে থাকেন তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। অপরদিকে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় প্রশংসায় ভাসতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। 

এদিকে দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, চাঁদা, দখলবাজিসহ সব ধরনের ‘বাজিকর’দের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়ম, দুর্নীতি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও যে কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তিনি কোন পদে আছেন, সেটি দেখা হবে না। বরং তার অপরাধের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। 

প্রসঙ্গত, রাজধানীর মিরপুরে সম্প্রতি রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সরকারদলীয় সংসদ-সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে। এছাড়া দলের স্থানীয় পর্যায়ের আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন। পুরো ঘটনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা নেওয়ার পর তিন দিনের মাথায় বুধবার থেকে সাংগঠনিক অ্যাকশন শুরু হয়। 

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আরও যাদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ কিংবা প্রমাণ সামনে আসবে, তাদের পরিণতিও একই হবে। এছাড়া দলের বিতর্কিতদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীসহ সারা দেশে যেসব নেতাকর্মী দখল, চাঁদাবাজি কিংবা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকেও বিতর্কিত নেতাদের তালিকা এবং তাদের কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সূত্রমতে, দলীয় শৃঙ্খলা সুরক্ষার এই অভিযানে ‘ঝুঁকিতে’ আছেন আরও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতা। তাদের বিষয়টিও তদন্তাধীন। এছাড়া সতর্ক করা হয়েছে দলের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকেও। দলের হাইকমান্ড থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কাউকেই কোনো ধরনের সাংগঠনিক সুরক্ষা দেওয়া হবে না। নেতা যত বড়ই হোক, সাংগঠনিক শাস্তির আওতায় আসতেই হবে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘বিএনপি দেশ ও জনগণের জন্য রাজনীতি করে। সেখানে যদি কেউ বিশৃঙ্খলা করে, তাহলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের দলের কিছুসংখ্যক উচ্চাভিলাষী নেতাকর্মী শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন; যারাই অপরাধ করবেন, তাদের কোনো পরিচয় দেখা হবে না-কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’

সাম্প্রতিক কয়েকটি দখল, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, কোনো রাজনৈতিক ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। 

এদিকে কয়েকদিনে রাজধানীতে সন্ত্রাসী হামলা-মামলার আলোচিত ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দলের কিছুসংখ্যক নেতাকর্মীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্যপ্রমাণ যায় বিএনপির চেয়ারম্যানের হাতে। এরই ধারাবাহিকতায় শৃঙ্খলা ইস্যুতে কঠোর বার্তা দেন তারেক রহমান। সে অনুযায়ী, বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। 

একই সময়ে বিলুপ্ত করা হয় উত্তর যুবদল ও পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও। বিএনপির পক্ষ থেকে অনৈতিক ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কারের কথাও জানানো হয়েছে। যুবদলের পক্ষ থেকে অবশ্য উত্তর মহানগর কমিটি বিলুপ্তির কারণ হিসাবে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ছাত্রদলও পশ্চিম মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পাশাপাশি সাংগঠনিক পুনর্গঠনও চলছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফর যখন দেশসহ বিশ্বপরিমণ্ডলে প্রশংসিত, ঠিক তখনই ঢাকার কয়েকটি ঘটনা তা কিছুটা হলেও স্লান করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দেশ, দল ও সরকারের ভাবমূর্তির বিষয়টি সবচেয়ে অগ্রাধিকার। এজন্য কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে। 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলাসহ মহানগর উত্তরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো নিয়ে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। বুধবার ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিসহ মহানগর নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। ওই বৈঠকে মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন তারেক রহমান। এছাড়া এসব ঘটনায় সরকারি দলের এমপি ও দলের প্রভাবশালী নেতাদের ইন্ধনের বিষয়টি বিএনপির চেয়ারম্যানের দৃষ্টিতে আনেন কেউ কেউ। 

বিএনপির চেয়ারম্যানের কাছে তাদের নামেও নানা অভিযোগ জমা পড়েছে। তাদের সরকারি ও দলীয় পদও এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাদের বিষয়টি তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন তারেক রহমান। প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেবেন তিনি। যদিও নেতারা বলছেন, রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনাটি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির জন্যই ‘কাল’ হয়েছে।

এদিকে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদেরও ছাড় দেওয়া হবে না বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সরকার ও বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী ও দলীয় নেতাকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান। 

কারণ হিসাবে সূত্রগুলো বলছে, এলাকায় দখলদারি, প্রভাব বিস্তার ও দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি অন্তত চারজন প্রতিমন্ত্রীর কাছে এ প্রসঙ্গে কারণও জানতে চেয়েছেন সরকারপ্রধান।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন