আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের জামিন নিয়ে সাদিক কায়েমের প্রতিক্রিয়া
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের মামলায় অভিযুক্ত কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদিকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই দিনে পৃথক পাঁচটি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকেও ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) উচ্চ আদালত থেকে এসব জামিন আদেশ আসার পর রাজনৈতিক ও ছাত্র মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতাদের জামিন প্রাপ্তিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বর্তমান পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, একদিকে আব্দুর রহমান বদি ও সেলিনা হায়াৎ আইভীর মতো ‘গণশত্রুরা’ কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছে এবং তাদের কার্যালয়গুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনের বিপ্লবীদের হেনস্তা করার একটি সুগভীর নীলনকশা কার্যকর করা হচ্ছে।
সাদিক কায়েম তার লেখায় বর্তমান প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন যে, সরকার প্রণীত ‘সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ উপেক্ষা করে কথিত পুলিশ হত্যার তদন্তের নামে জুলাইয়ের গণজাগরণকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। যারা আজ এই ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুনর্বাসিত করার পেছনে ভূমিকা রাখছেন, তাদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন যে, এই আত্মঘাতী পদক্ষেপের পরিণতি থেকে তারাও রেহাই পাবেন না এবং অচিরেই নিজেরাও এই অপশক্তির নির্মম শিকারে পরিণত হবেন।
আর্থিক খাতের অস্থিরতা ও অনিয়ম নিয়েও নিজের পোস্টে আলোকপাত করেন ডাকসু ভিপি। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নাটকীয় রদবদলের পর থেকেই সরকার-ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্যায্য আর্থিক সুবিধা দেওয়া শুরু হয়েছে। তার মতে, গণভোট ও ‘জুলাই সনদ’-এর মূল চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুরনো আমলের সেই দলীয়করণ ও রাজনৈতিক পরিচয়ে সুবিধা ভোগের কলুষিত সংস্কৃতি পুনরায় ফিরে আসছে, যা মূলত পরিবর্তনকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর নামান্তর।
সবশেষে জাতির ভবিষ্যতের প্রতি শঙ্কা প্রকাশ করে সাদিক কায়েম বলেন, যদি দেশ এভাবেই চলতে থাকে তবে সাধারণ মানুষের ভাগ্যে দাসত্ব ছাড়া আর কিছুই জুটবে না। ইতিহাসের দায় থেকে বাঁচতে এবং জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এখনই সংশ্লিষ্টদের শুভ বুদ্ধির উদয় হওয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যথায় ইতিহাসের কাঠগড়ায় কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না বলে তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেন।



