Logo
Logo
×

রাজনীতি

সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে বিএনপিতে তৎপরতা, রমজানেই ভোটের ইঙ্গিত ইসির

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম

সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে বিএনপিতে তৎপরতা, রমজানেই ভোটের ইঙ্গিত ইসির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন। নির্বাচন কমিশন ইঙ্গিত দিয়েছে, রমজান মাসের মধ্যেই এ আসনগুলোর নির্বাচন সম্পন্ন করা হতে পারে। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, বিএনপি জোটের ভাগে ৩৭টি আসন পড়তে পারে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয় পায়। ফল ঘোষণা না হওয়া দুটি আসনেও বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ী সাতজনও মূলত বিএনপির নেতা। সে হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির প্রাধান্য নিশ্চিত বলেই মনে করছেন দলীয় নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেত্রী সক্রিয় তৎপরতা শুরু করেছেন। অনেকে ঢাকায় অবস্থান করে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। তদবিরও চলছে বিভিন্ন পর্যায়ে।

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন ত্রয়োদশ নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত এবং মনোনয়ন পেয়েও পরাজিত হওয়া নেত্রীদের কেউ কেউ। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের নেত্রীরাও আলোচনায় রয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের হাইকমান্ড।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, রমজানের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঈদের আগেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় ইসি। সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন শেষ করতে হয়।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ইসির তফসিল অনুযায়ী দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলনে ভূমিকা, সাংগঠনিক অবদান ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়েই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এবার তরুণ নেত্রীদের মূল্যায়নের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

ত্রয়োদশ নির্বাচনে অন্তত ৫০টি আসনে বিএনপির নারী নেত্রীরা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তাঁদের অনেকেই এখন সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, সাবেক এমপি শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিন।

এ ছাড়া কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন ও কনক চাঁপা এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ–এর স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদের নামও আলোচনায় আছে।

ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেত্রী অপর্ণা রায়, শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি, রাবেয়া আলম, জেবা আমিন খান, শাহিনুর নার্গিস, তানজিন চৌধুরী লিলি, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, শাহিনুর সাগর, ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি), বীথিকা বিনতে হুসাইন, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, হেলেন জেরিন খান, আরিফা সুলতানা রুমা, সামিরা তানজিনা চৌধুরী ও সৈয়দা আদিবা হোসেনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, সরকারে থেকে দেশের জন্য কাজ করতে চান তিনি। দীর্ঘদিন আন্দোলনে থাকার পর দায়িত্ব পাওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) বিলকিস আকতার জাহান শিরিন বলেন, দলের আন্দোলন-সংগ্রাম ও দুঃসময়ে পাশে ছিলেন। কাজের মূল্যায়ন দল করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন হিসাব-নিকাশ, প্রত্যাশা ও কৌশলের মৃদু ঢেউ। রমজানের চাঁদ উঠতেই সেই ঢেউ ভোটের তফসিলে রূপ নেবে কি না, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন