আমরা ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন চাই না : সালাহউদ্দিন আহমদ
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শহীদ জিয়াউর রহমান এই দেশকে ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও সংস্কৃতির ঊর্ধ্বে তুলে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়েছিলেন। সমতল-পাহাড়, সকল জনগোষ্ঠীকে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। আমরা ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন চাই না।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজার শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে কক্সবাজার-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের সমর্থনের আয়োজিত নির্বাচনী জন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইসলামের ঠিকাদারি নিয়েছে? এমন প্রশ্নে তুলেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, আমরা কারা- জনগণ তা ভালো করেই জানে। আমরা সেই দল, যারা সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। আমরা সেই আদর্শের দল।
সভায় যারা সস্তা দামে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করছে, মা-বোনদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তারা কোনোদিন এদেশে সফল হবে না বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, যাদের পাসপোর্টে বাংলাদেশি পরিচয় লেখা আছে, তারাই এ দেশের প্রকৃত নাগরিক। যারা সস্তা দামে জান্নাত বিক্রির রাজনীতি করে, যারা মা-বোনদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে- তারা কোনোদিনই এ দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে না।
২৪-এর ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে যারা রক্ত দিয়েছে, শহীদ হয়েছে, তাদের সেই স্বপ্নকে বিএনপি ধারণ করে এবং দেশের গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে বিএনপি পূরণ করতে চায় বলেও জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য।
তিনি বলেন, জামায়াত আজ নতুন করে স্বাধীনতার ইতিহাস লিখতে চায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বয়ান করতে চায়। কিন্তু যারা একদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, এ দেশের মা–বোনদের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে এবং সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করেছে- তারা কীভাবে আজ স্বাধীনতার ইতিহাসের কথা বলে? নাউজুবিল্লাহ।
জামায়াত বিকৃত ইতিহাসের মাধ্যমে ভিন্ন ভাষায় বাংলাদেশের স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করতে চায় জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ইতিহাস কিন্তু পরিষ্কার- ২৫ মার্চের দিনগত রাতে ও ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তৎকালীন মেজর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এ কারণেই ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস।
এসময় তিনি কক্সবাজার-০৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফর রহমান কাজলকে ভোট দেওয়ার জন্য আহবান।
সমাবেশে জামায়াত কোন ইসলামিক দল নয়; মওদুদী ইসলাম মন্তব্য করে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, ইসলামের লেবাস নিয়ে একটি দল ক্ষমতার স্বপ্নে বিভোর। দলটি এখন দেশকে ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দিতে চায়। বাংলাদেশকে আমরা দিল্লী বা ওয়াশিংটন, কোন শক্তির তালুকবন্দি হতে দেবো না।
সভায় প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল সভার প্রধান অতিথির কাছে কিছু দাবি উত্থাপন করেন। দাবি সমুহ হল, সরকার যদি উন্নয়নের জন্য মানুষের জমি নেয়, তাহলে মানুষের সম্মতি ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কিন্তু খাস জমি, পিএফ জমি বা সরকারি জমিতে যারা বসবাস করছেন, তারা সব সময় উচ্ছেদের আতঙ্কে থাকেন—এটা গ্রহণযোগ্য নয়। উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের ভয় দেখিয়ে নয়, তাদের জন্য আইন করতে হবে। খাস জমি ও পিএফ জমিতে বসবাসকারীদের যেন আইনগত বৈধতা দেওয়া হয়। আর যদি কখনো উচ্ছেদ করতেই হয়, তাহলে অবশ্যই পুনর্বাসন ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে উচ্ছেদ করতে হবে।
কক্সবাজারে পর্যটন শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে কাজল বলেন, কিন্তু বর্তমান সরকার নানা বিধিনিষেধ ও আইন করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করেছে, একচেটিয়া সুবিধা তৈরি করেছে। আমরা চাই পর্যটন শিল্প উন্মুক্ত হোক, বিদেশি বিনিয়োগ আসুক, কর্মসংস্থান বাড়ুক, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ হোক এবং দেশের আয় বাড়ুক—সে লক্ষ্যেই আইন প্রণয়ন করা হবে।
ব্লু ইকোনমি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি মন্তব্য করে তিনি সমুদ্র সম্পদভিত্তিক গবেষণা, ব্যবহার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কক্সবাজারে একটি বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার দাবি জানান। তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সার্টিফিকেট নয়, উদ্যোক্তা তৈরি করবে—যারা নিজেরা কাজ করবে, অন্যদেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
বিকেল ৩টায় কক্সবাজার শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে এ জনসভা শুরু হয়। চলে বিকেল সন্ধ্যা পৌনে ৬টা পর্যন্ত। তবে জনসভা শুরুর আগে দুপুর ২টা থেকেই দলে দলে জনসভাস্থলে জমায়েত হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। সভা শুরুর আগেই নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে উঠে জনসভাস্থল। সভায় বিএনপি, অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।



