চাঁদাবাজি ছাড়লে হালাল রুজির ব্যবস্থা করে দেব: জামায়াত আমির
অনলাইন ডেস্ক :
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ডা. শফিক বলেন, ‘দেশে কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হোক আর দল হতে চাই না৷ দেশের টাকায় কেনা অস্ত্রে আর কারও প্রাণ যাক আমরা চাই না।’
চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির লালকার্ড উল্লেখ করে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেব না।’ রোববার দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ঢাকা–৪ ও ৫ আসনের নির্বাচনী জনসভায় এ আহ্বান জানান তিনি।
এসময় জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশে নতুন পেশা এখন চাঁদাবাজি। তাদেরকে বলবো ভালো পথে চলে আসুন। আপনাদেরকে হালাল রুজির ব্যবস্থা করে দেব আমরা।’
ডা. শফিক বলেন, ‘দেশে কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হোক আর দল হতে চাই না৷ দেশের টাকায় কেনা অস্ত্রে আর কারও প্রাণ যাক আমরা চাই না।’
গণভোটে হ্যাঁ–কে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী। ৪৭, ৭১, ২৪–এর প্রতি সম্মান জানানোই হ্যাঁ। আজাদী না হওয়া পর্যন্ত লড়াই জারি থাকবে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘বস্তাপচা রাজনীতি দেখতে চাই না আমরা আর। তরুণ সমাজ দেখিয়ে দিয়েছে ফ্যাসিবাদ-আধিপত্যবাদ মুক্ত বাংলাদেশ, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চায়৷ যারা জনগণের ভাষা বুঝে না আগামী ১২ তারিখ জনগণ তাদেরকে বুঝিয়ে দেবে ভোট দিয়ে।’
বেকার ভাতা দেওয়ার অবস্থান থেকে সরে এসে জামায়াতের আমির বলেন, ‘বেকার ভাতা দিয়ে বেকার করতে চাই না তরুণদের। তাদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলব। কারিগরের হাত কারও দয়ার জন্য অপেক্ষা করে না। আমরা তাদেরকে মর্যাদার দিকে নিয়ে যেতে চাই। আলিয়া শিক্ষা, কওমি শিক্ষা সব জায়গাতেই করব। পাল্লা বিজয়ী হলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে।’
নারীদের উন্নয়ন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এক অংশকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমি কে আমার মাকে খেদমত থেকে দূরে রাখার। দেশের সকল উন্নয়নে নারীরা মা ও বোনেরা এগিয়ে যাবে।’
এ বিষয়ে জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘নারী নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের মায়েদের মর্যাদা আমাদের জীবনের চাইতে বেশি। মায়েদের নিরাপত্তার জন্য ইভিনিং বাস সার্ভিস চালু করা হবে। মায়েদের মর্যাদায় আমরা বিশ্বাস করি।’
‘কোনো পুরুষ বাচ্চা জন্ম দিতে পারবেন? বাচ্চাকে দুধ পান করাতে পারবেন? তাহলে কেন, মায়ের তুলনা শুধুই মায়েদের জন্য। অন্য কারোর সাথে নয়।’ যোগ করেন তিনি।
এমপিদের জবাবদিহি প্রসঙ্গে ডা. শফিক বলেন, ‘নির্বাচিত হলে ৬ মাস পর পর জনপ্রতিনিধিদের জনগণের মুখোমুখি করা হবে। আমরা জনগণের বিজয় চাই, জামায়াতে ইসলামী নয়।’
ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে জুলাই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি গণহত্যা হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘খেদমত করার সুযোগ পেলে এই যাত্রাবাড়ীর ঋণই পরিশোধ করব সবার আগে।’
উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘খেলার মাঠ থাকলে জনগণকে কষ্ট দিতাম না। রাস্তায় সমাবেশ করার কারণে জনগণের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। খেদমত করার সুযোগ পেলে এই সমস্যার সমাধান করব।



