জামায়াতে ইসলামীর জোটে যোগ দিয়েছে লেবার পার্টি। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে গিয়ে জোটে যোগ দেন দলটির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। এর মাধ্যমে জামায়াত-এনসিপির জোট আবার ১১ দলে পরিণত হয়েছে। যদিও লেবার পার্টি জোট থেকে আসন পাচ্ছে না।
লেবার পার্টি চেয়ারম্যান ইরান জানিয়েছেন, নিজে নির্বাচন না করলেও জোটের পক্ষে কাজ করবেন।
গত সেপ্টেম্বরে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল এক হয়ে নির্বাচনী সমঝোতার ঘোষণা দেয়। ২৯ ডিসেম্বর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ হওয়ার দুদিন আগে এনসিপি এবং এবি পার্টি যোগ দেয় এই নির্বাচনী সমঝোতায়। যুক্ত হয় বিএনপির জোটে প্রত্যাশিত সংখ্যক আসন না পাওয়া এলডিপি।
এতে জামায়াতের নির্বাচনী ঐক্য ১১ দলে পরিণত হয়। তবে আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনে বেরিয়ে গেলে, তা ১০ দলে পরিণত হয়। লেবার পার্টি প্রায় ১৩ বছর ছিল বিএনপির জোটে। তবে দলটিকে আসন ছাড়া হয়নি আগামী নির্বাচনে। এতে ক্ষুব্ধ দলটি বিএনপিকে ছেড়ে জামায়াতের সঙ্গে যোগ দিয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা এ টি এম মাছুম জানান, লেবার পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যুক্ত হয়েছে। লেবার পার্টির ১৫ জন প্রার্থী রয়েছেন।
মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেছেন, প্রার্থীরা নিজেদের মত করে নির্বাচন করবেন। বাকি ২৮৫ আসনে লেবার পার্টির নেতাকর্মীরা জামায়াত জোটের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করবেন।
ইরান বলেন, ‘জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের মধ্যে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাথির মোহাম্মদের ছায়া দেখা যাচ্ছে। তার নেতৃত্বে দেশের মানুষ একজন খামেনি ও মাহাথির মোহাম্মদের প্রত্যাশা করছে। একজন মানবিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন শফিকুর রহমান। তিনি জাতিকে উজ্জীবিত করেছেন। তা থেকে লেবার পার্টিও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।’
বিএনপির সমালোচনা করে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর যাদের সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, তাদের চেহারায় ক্রমশ ফ্যাসিবাদের ছাপ লক্ষ্য করছি। ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডগুলো তাদের আচরণেই ধীরে ধীরে প্রমাণিত হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ লেবার পার্টির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



