‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’-এর জন্য নীতিগত রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলটি এ রূপরেখা ঘোষণা করেছে। (মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে জামায়াত আয়োজিত পলিসি সামিট–২০২৬-এ রূপরেখা উপস্থাপন করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
‘পলিসি সামিট ২০২৬’ এ যেসব বিষয় থাকছে সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-
১. ট্যাক্স ও ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) বর্তমান হার থেকে ক্রমান্বয়ে কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ট্যাক্স ১৯ শতাংশ ও ভ্যাট ১০ শতাংশে নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২. স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালু (এনআইডি, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা এক কার্ডে)।
৩. আগামী ৩ বছরে সব শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ বাড়ানো হবে না।
৪. কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধা।
৫. গ্রাজুয়েশন শেষে চাকুরি পাওয়া পর্যন্ত সময়ে ৫ লক্ষ গ্রাজুয়েটকে সর্বোচ্চ ২ বছর মেয়াদি মাসিক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ প্রদান (কর্জে হাসানা)।
৬. মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে ১ লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ।
৭. প্রতিবছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ। মেধাবী গরীবের সন্তানও যেন হার্ভার্ড, এমআইটি, অক্সফোর্ড, ক্যাম্ব্রিজে পড়তে পারে।
৮. ইডেন ও বদরুন্নেসা কলেজ একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
৯. ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক ও ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা।
১০. বন্ধ কলকারখানা পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপে চালু এবং ১০% মালিকানা শ্রমিকদের প্রদান।
১১. ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা।
তরুণদের জন্য পরিকল্পনা
১২. দক্ষ জনশক্তি ও জব প্লেসমেন্টের জন্য নতুন মন্ত্রণালয়।
১৩. ৫ বছরে ১০ মিলিয়ন তরুণকে বাজারভিত্তিক স্কিল প্রশিক্ষণ।
১৪. প্রতিটি উপজেলায় গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন।
১৫. প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে ৫ বছরে ৫ মিলিয়ন জব এক্সেস নিশ্চিত।
১৬. নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে ৫ লক্ষ উদ্যোক্তা তৈরি।
১৭. ১.৫ মিলিয়ন ফ্রিল্যান্সার তৈরি।
১৮. স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু।
আইসিটি ও ভিশন ২০৪০
১৯. আইসিটি সেক্টর উন্নয়নে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা।
২০. ২০৩০ সালের মধ্যে ২ মিলিয়ন আইসিটি জব সৃষ্টি ও প্লেসমেন্ট।
২১. ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল রপ্তানির জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন।
২১. আইসিটি সেক্টর থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়।
২৩. আইসিটি খাতে সরকারের ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় সাশ্রয়।
২৪. লক্ষ্য: শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর।
রেমিট্যান্স সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়, দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে ৫-৭ বছরের মধ্যে রেমিট্যান্স আয় দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি করা, অর্থনৈতিক রেমিট্যান্সের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি প্রফেশনাল, গবেষক, শিক্ষকদের দেশে নিয়ে আসা হবে ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ হিসেবে।



