নির্বাচনী ইশতেহার চূড়ান্তে জামায়াত, দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৯ এএম
সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শিগগিরই ইশতেহার ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি। জামায়াতের নেতাদের ভাষ্য, প্রস্তাবিত ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব থাকছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এবারের ইশতেহারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ভিত্তিতে দুর্নীতির মূলোৎপাটনের অঙ্গীকার থাকবে। এ ছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, জাতীয় সরকার গঠনের ধারণা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণে মিতব্যয়িতার নজির স্থাপনের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হবে। জামায়াতের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে দলের কোনো সংসদ সদস্য সরকারি প্লট বা করমুক্ত গাড়ির সুবিধা নেবেন না—এমন প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ইশতেহারের সম্ভাব্য বিষয়গুলো নিয়ে অভ্যুত্থান-পরবর্তী গত দেড় বছরে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন জামায়াতের শীর্ষ নেতারা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সেখানে বারবার উঠে এসেছে। সর্বশেষ গত সোমবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির লেজ নয়, কান ধরে টান দেব। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দলীয় পরিচয় কোনো বিবেচ্য হবে না।
শিক্ষা খাতে ‘আমূল পরিবর্তন’-এর কথাও ইশতেহারে গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে দলটি। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে ভঙ্গুর আখ্যা দিয়ে জামায়াতের আমির এক সভায় বলেন, যে শিক্ষা অনৈতিকতা ও দুর্নীতির জন্ম দেয়, তা তারা বহাল রাখবেন না। বরং বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসারে জোর দেওয়া হবে। বেকারত্ব নিরসনে শিক্ষিত তরুণদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা কিংবা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকারও করছে জামায়াত। দলটির ভাষ্য, বেকার ভাতা নয়—শিক্ষাজীবন শেষে কোনো তরুণ যেন বেকার না থাকে, সেটিই তাদের লক্ষ্য।
ক্ষমতায় গেলে নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করার বার্তাও দিচ্ছে জামায়াত। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন মঙ্গলবার এক সংলাপে বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ‘সংখ্যাগুরু’ ও ‘সংখ্যালঘু’ ধরনের বিভাজনমূলক শব্দ সমাজ থেকে দূর করার কথাও জানান তিনি। বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই কেবল নাগরিক পরিচয়েই পরিচিত হবেন এবং সম্পত্তি, শিক্ষা ও রাজনীতিতে সমান অধিকার ভোগ করবেন।
এদিকে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির প্রক্রিয়ায় অনলাইনে জনমত নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জামায়াতের আমির জানান, ‘জনতার ইশতেহার’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জনগণের মতামত সংগ্রহ করা হবে।



