Logo
Logo
×

রাজনীতি

তাসনিম জারা ও নিজেকে নিয়ে ‘কিছু বিষয় স্পষ্ট’ করলেন খালেদ সাইফুল্লাহ

Icon

অনলাইন ডেস্ক :

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

তাসনিম জারা ও নিজেকে নিয়ে ‘কিছু বিষয় স্পষ্ট’ করলেন খালেদ সাইফুল্লাহ

ছবি : সংগৃহীত

স্ত্রী তাসনিম জারা ও নিজেকে নিয়ে ইন্টারনেটে ছড়ানো একটি দীর্ঘ লেখাকে বানোয়াট, অনুমাননির্ভর ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদত্যাগকারী নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত জীবনের খণ্ডচিত্র ও অসত্য তথ্য ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যা অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীকেও ভুল পথে পরিচালিত করছে।

পোস্টে খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, এসব বিভ্রান্তি দূর করতে কিছু বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি বলে তিনি মনে করেছেন।

তিনি বলেন, ‘জারার মনোনয়ন আপিলের পর গ্রহণ হওয়ার প্রসঙ্গটি টেনে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে তিনি বিশেষ কোনো মহল থেকে বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন এবং তাকে এভাবেই নির্বাচনেও পাশ করানো হবে। অথচ আপনারা একটু খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন যে, নির্বাচন কমিশনে প্রথম দিনে ৭০ জন আপিলকারীর মধ্যে ৫১ জনই প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন। দ্বিতীয় দিনে ৭১ জনের মধ্যে ৫৮ জনের প্রার্থিতা মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে নাগরিক ঐক্যের জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না এবং রাষ্ট্র সংস্কারের জনাব হাসনাত কাইয়ুমও রয়েছেন। অর্থাৎ, প্রায় সব আপিলকারীর ক্ষেত্রেই নির্বাচন কমিশন যৌক্তিক ও নমনীয় আচরণ দেখিয়েছে। এই অত্যন্ত সাধারণ ও স্বাভাবিক একটি বিষয়কে গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।’

খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘এই দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে আরও কিছু অসত্য ও অতিরঞ্জনকে প্রমাণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়গুলো পরিষ্কার করা জরুরি।’

‘আমার বাবা কখনোই জামায়াত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। আমি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দেওয়ার আগে কখনো জামায়াত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা দলের অঙ্গ-সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। একইভাবে, তাসনিম জারা বা তার পরিবারের কেউ জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যুক্ত হওয়ার আগে কোনো রাজনৈতিক দল বা দলের অঙ্গ-সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। এর বিপরীত সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ বানোয়াট। উল্লেখ্য, আমার এই ব্যাখ্যার উদ্দেশ্য কিছু সত্য তুলে ধরা- কোনো নির্দিষ্ট দল করা বা সমর্থন করাকে আমি অন্যায় মনে করি না ‘

পোস্টে বলা হয়, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট গোপন রেখে তাসনিম জারা নির্বাচনের জন্য ক্রাউডফান্ডিং চালিয়েছেন এবং পরে টাকা তুলে পদত্যাগ করেছেন—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। খালেদ সাইফুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, জারা ২২ ডিসেম্বর ক্রাউডফান্ডিং শুরু করেন। তিন দিন পর, ২৫ ডিসেম্বর জামায়াতের সঙ্গে জোটের খবর জানার পর তিনি এনসিপির ছয়জন নারী নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং কোনো দলের সঙ্গে জোটে না গিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান। ওই ছয়জনের মধ্যে তিনজন ছিলেন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য।

২০১৭ সালে তাসনিম জারার বিয়ে সংক্রান্ত একটি পুরোনো পোস্ট ভাইরাল হওয়াকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন খালেদ সাইফুল্লাহ। তিনি বলেন, এই দাবি মূলত আওয়ামী ঘরানার লোকজন করে থাকেন। অথচ বিষয়টি নিয়ে প্রথম সংবাদ প্রকাশ করেছিল ‘এগিয়ে চলো’ নামের একটি আওয়ামী স্বার্থসংশ্লিষ্ট পোর্টাল। পরবর্তীতে একই পোর্টাল জারার ২০১৩ সালের একটি ইংরেজি পোস্ট ভুল ব্যাখ্যা করে তাকে ‘যুদ্ধাপরাধী সমর্থক’ আখ্যা দেয় এবং পরে সেই সংবাদ সরিয়ে নেয়।

খালেদ সাইফুল্লাহ আরও বলেন, লেখাটিতে তার সম্পর্কেও কল্পনাপ্রসূত তথ্য ছড়ানো হয়েছে। তাকে সাংবাদিক বলা হলেও তিনি কখনো সাংবাদিকতা করেননি। তিনি কেমব্রিজে পড়াশোনা করেছেন—এমন দাবিও ভুল। বাস্তবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, যা সহজেই যাচাইযোগ্য পাবলিক তথ্য। এসব মৌলিক তথ্যেও ভুল থাকা পুরো লেখাটির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্টের শেষে খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলা হলেও বাস্তবে অপবাদ দিতে আর প্রমাণের প্রয়োজন বোধ করা হচ্ছে না। যাদের ব্যক্তিগত মতাদর্শের সঙ্গে এসব ভিত্তিহীন দাবি মিলে যায়, তারা যাচাই ছাড়াই তা বিশ্বাস ও প্রচার করছেন—এটি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।


Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন