ভোটের বাকী তিনদিন, ডাকসুতে প্রচার তুঙ্গে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:২৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই তুঙ্গে উঠছে প্রচার-প্রচারণা। প্রকাশ্য প্রচারের পাশাপাশি পর্দার আড়ালে সমঝোতাও চলছে প্রার্থীদের মধ্যে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী আবু বাকের মজুমদারকে সমর্থন জানিয়ে নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’-এর জিএস প্রার্থী মাহিন সরকার।
গতকাল দুপুরে মধুর ক্যানটিনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে মাহিন বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক হিসেবে তিনি গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিকে সমন্বিত রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষায়, আবু বাকের জিতলেই আমি জিতে যাব। তবে এর আগে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অন্য প্যানেল থেকে প্রার্থী হওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন তিনি।
মাহিনের এই ঘোষণার জবাবে একই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী জামালুদ্দীন মুহাম্মদ খালিদ সন্ধ্যায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমাদের প্যানেল কারও ওপর নির্ভরশীল নয়। ঐক্যবদ্ধভাবেই আমরা এগোচ্ছি। মাহিন সরকার ‘জুলাই চেতনা’ নামে একটি ফ্রেমিং তৈরি করেছেন, কিন্তু দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি থেকে মুক্ত থেকে আমাদের প্রার্থীরাই বিজয়ী হবেন।
এদিকে বাগছাসকে এনসিপির ছদ্মবেশী সংগঠন বলে অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদল মনোনীত জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যাহা জাতীয় নাগরিক পার্টি, তাহাই বাগছাস। তাদের ফেসবুক কার্যক্রমই প্রমাণ। অথচ তারা দাবি করে কোনো মাদার পার্টি নেই।
প্রচার তুঙ্গে, ভোটের আর মাত্র তিন দিন
ভোট গ্রহণের আর মাত্র তিন দিন বাকি থাকায় প্রার্থীদের প্রচার এখন দম ফেলার সময় দিচ্ছে না। গতকাল শুক্রবার ক্যাম্পাস ছুটি থাকায় জুমার নামাজ শেষে হলে হলে প্রচার চালিয়েছেন সব প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম এবং এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ বিভিন্ন হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রচারে অংশ নেন।
ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম, জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ এবং এজিএস প্রার্থী মহিউদ্দিন খানও একইভাবে হলে হলে যান।
বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার ফজলুল হক মুসলিম হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা রোকেয়া হলে প্রচারণা চালান।
১০০ দিনের পরিকল্পনা ঘোষণা
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে জুমার নামাজ শেষে ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন ছাত্রদল মনোনীত জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম। তাঁর ঘোষণায় রয়েছে—লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু, শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রবর্তন, ক্যারিয়ার গাইডেন্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা, নারী শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের সময় রাত ১২টা পর্যন্ত বাড়ানোসহ মোট ১৭টি উদ্যোগ।



