বিএনপিতে অপকর্মে জড়িত নেতাকর্মীদের তালিকা হচ্ছে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৫, ১১:৩০ এএম
ছবি- সংগৃহীত
দেশব্যাপী দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। বিশেষ করে 'হাইব্রিড' ও 'নব্য বিএনপি'র নামে পরিচিত ব্যক্তিরা এসব অপকর্মে বেশি সক্রিয়। এমন কর্মকাণ্ডে তৃণমূল পর্যায়ে কোন্দল, গ্রুপিং এবং কয়েকটি জেলায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও দেখা দিয়েছে, যা দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিএনপির হাইকমান্ড দলীয় শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে। ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো পুনর্নিরীক্ষা করা হচ্ছে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরি করে তাদের সতর্ক করা, বহিষ্কার এবং প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করা হচ্ছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, দলের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বিএনপি পিছপা হবে না। ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে, প্রয়োজনে তালিকা করেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের পর বিএনপির রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এসেছে, এখন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অপকর্মে যুক্ত হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
গত ১১ মাসে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অন্তত পাঁচ হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার এবং এক হাজারকে শোকজ করা হয়েছে। ভোলা ও লালমনিরহাটের সাম্প্রতিক ঘটনায়ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিএনপি দাবি করছে, আওয়ামী লীগের ছদ্মবেশী কর্মীরা দল infiltrate করে ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। এসব ‘সাইলেন্ট গ্রুপ’দের বিষয়ে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “আওয়ামী লীগ যেসব অপকর্ম করে এ দেশে বদনাম করেছে, বিএনপি কখনো সে পথে যাবে না। চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও বলেন, “যারা দল নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে।”
দলীয় নেতারা স্বীকার করছেন, কিছু অভিযোগ সত্য হলেও অনেক সময় পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।



