অনুপ্রেরণাদায়ী তরুণ প্রিন্স আইউব
স্বপ্ন বদলের গল্পে কোটি টাকার সাফল্য
যুগের চিন্তা ২৪ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
অনুপ্রেরণাদায়ী তরুণ প্রিন্স আইউব
ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। তবে সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্নের পথ বদলে যায়। বর্তমানে তিনি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ডিজিটাল মার্কেটার। মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনে ধীরে ধীরে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে।
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রিন্স আইউব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কাজের মাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করেছেন। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে রয়েছে তার বিপুলসংখ্যক অনুসারী। কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত তিনি।
প্রিন্স আইউবের পুরো নাম প্রিন্স আইউব। তিনি ভোলা জেলার আলিনগর ইউনিয়নের মৌটুপি গ্রামে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে উঠেছেন। বর্তমানে তিনি ভোলা সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা মৃত মোঃ হযরত আলী ছিলেন একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। মা আয়শা বেগম। তারা এক ভাই ও এক বোন।
২০১৮ সালে কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে প্রিন্স আইউবের যাত্রা শুরু হয়। শুরুটা ছিল একেবারেই সাধারণ। তার ভাগ্নের কাছ থেকেই প্রথম Likee সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি। এরপর Likee ও TikTok-এ ভিডিও তৈরি শুরু করেন। ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে এবং নিজের সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করতে শুরু করেন।
নিজের যাত্রাপথ সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রিন্স আইউব বলেন, “২০১৮ সালে আমার কনটেন্ট তৈরির যাত্রা শুরু হয়। আমার ভাগ্নের কাছ থেকে প্রথম Likee সম্পর্কে জানতে পারি। এরপর নিজেও ভিডিও তৈরি শুরু করি। শুরুতে বিষয়টি শখের মতো ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষের ভালোবাসা পেতে শুরু করি। একপর্যায়ে TikTok-এ আমার প্রায় ১০ লাখ অনুসারী হয়। পরে সেই অ্যাকাউন্ট হারিয়ে যাওয়ার পর নতুন করে Facebook-সহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরু করি।”
কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি নিজের জীবনে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছে তাকে। ২০১৯ সালে বাবাকে হারান প্রিন্স আইউব। বাবার মৃত্যু তার জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। সেই সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও পরবর্তীতে নিজেকে সামলে আবারও নিজের কাজের দিকে মনোযোগ দেন তিনি।
২০১৯ সালে Facebook-এ কাজ শুরু করার পর ধীরে ধীরে তার কনটেন্টের পরিধি বাড়তে থাকে। ২০২১ সালে তার Facebook পেজে মনিটাইজেশন চালু হয়। অনলাইন থেকে প্রথম আয় পাওয়ার পর মাকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে সেই আয়ের বিষয়টি দেখান তিনি। পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহ ও সহযোগিতাও তার পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েশনের পাশাপাশি ২০২১ সাল থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন প্রিন্স আইউব। অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়াতে থাকেন তিনি। তার দাবি, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন অনলাইন কাজের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত তিনি এক কোটিরও বেশি টাকা আয় করেছেন। এক মাসে সর্বোচ্চ আয় হয়েছে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা।
নিজের সাফল্যের পাশাপাশি মানুষের জন্য কিছু করার লক্ষ্যও রয়েছে প্রিন্স আইউবের। সেই লক্ষ্য থেকেই ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল প্রতিষ্ঠা করেন ‘Prince Ayub Foundation’। মানবতা, শিক্ষা ও সামাজিক প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি অসহায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যায় সহযোগিতা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ফাউন্ডেশন সম্পর্কে প্রিন্স আইউব বলেন, “আমি মনে করি, একজন মানুষের সফলতা শুধু তার নিজের জন্য নয়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী যদি অন্য একজন মানুষের উপকার করা যায়, সেটাই বড় বিষয়। তাই আমি চাই আমার আয়ের একটি অংশ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মানুষের পাশে দাঁড়াতে।”
বর্তমানে কনটেন্ট ক্রিয়েশন, ডিজিটাল মার্কেটিং ও সামাজিক কর্মকাণ্ড—তিনটি ক্ষেত্রেই নিজের কাজকে এগিয়ে নিতে চান প্রিন্স আইউব। ছোটবেলার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত না হলেও ভিন্ন এক পথ বেছে নিয়ে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। সেই পথচলায় পরিবার, দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসাকে নিজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন এই তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর।



