প্রবাসে নিজের সম্মান ও দেশের ভাবমূর্তি: আমাদের দায়িত্ব ও সচেতনতা
মাহাফুজ কাজী রিজু
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
মাহাফুজ কাজী রিজু,শিক্ষার্থী, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি
বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে একজন নাগরিক শুধু নিজের প্রতিনিধিত্ব করেন না; অজান্তেই তিনি হয়ে ওঠেন নিজ দেশের ও নিজ বিশ্বাসের এক-একজন নীরব প্রতিনিধি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে যখন আমাদের লাখ লাখ প্রবাসী ভাই-বোন দিনরাত পরিশ্রম করছেন, তখন তাদের প্রতিটি আচরণ, সততা ও মূল্যবোধ দিয়ে পুরো বাংলাদেশকে বিচার করা হয় বিদেশিদের চোখে।
ব্যক্তিগত আচরণ ও জাতীয় পরিচয়
বিদেশে একটি ভালো কাজের যেমন প্রশংসা হয়, তেমনি যেকোনো নীতিহীন বা বেআইনি কাজের দায়ভার কেবল ওই ব্যক্তির ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রবাসে একজনের করা একটি ভুলের কারণে পুরো জাতির সম্মান ক্ষুণ্ন হতে পারে। এমনকি সেই ভুলের চরম মূল্য হিসেবে হাজারো সৎ ও পরিশ্রমী প্রবাসীর কর্মসংস্থান এবং নতুনদের জন্য শ্রমবাজার হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই বিদেশে পাড়ি জমানোর পর প্রতিটি নাগরিকের পদক্ষেপ হওয়া উচিত অত্যন্ত সচেতন, সংযত ও দায়িত্বশীল।
ইসলামি মূল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুশাসন
ইসলাম প্রতিটি মুসলমানকে সততা, শালীনতা ও আমানতদারিতার শিক্ষা দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন—মানুষ যেখানেই অবস্থান করুক না কেন, সে যেন আল্লাহর তাকওয়া (ভয়) বজায় রাখে এবং নিজের চরিত্রকে সুন্দর করে। বিশেষ করে যারা পবিত্র ভূমি মক্কা-মদিনা বা বিভিন্ন মুসলিম অধ্যুষিত দেশে অবস্থান করছেন, সেখানে স্থানীয় আইন ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা করা তাদের জন্য দ্বিগুণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। যেকোনো প্রকার নীতিহীনতা, অনৈতিকতা বা গর্হিত কাজ যেমন পার্থিব আইনে কঠোর শাস্তি বয়ে আনে, তেমনি তা পরকালের জন্যও মারাত্মক ক্ষতির কারণ।
আইন মেনে চলা ও বিচক্ষণতা
যে দেশে আমরা অবস্থান করি, সে দেশের প্রচলিত আইনকানুন এবং সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো প্রতিটি প্রবাসীর অবশ্যকর্তব্য। প্রবাস জীবনের একাকীত্ব, সাময়িক প্রলোভন কিংবা আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো ধরনের অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানো মানে নিজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা এবং দেশের মাটিতে থাকা পরিবারকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া। তাই প্রতিটি প্রবাসীর উচিত আইনি সচেতনতা ও সর্বোচ্চ বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়া।
কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার পাশাপাশি আমাদের প্রবাসীরা বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’। তাই নিজেদের ত্যাগ ও পরিশ্রমের পূর্ণ মর্যাদা দিতে হলে ব্যক্তিগত সততা, পবিত্রতা এবং নৈতিকতা বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই। প্রবাসে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে রক্ষা পাক নিজের আত্মসম্মান, দেশের মর্যাদা এবং আমাদের হাজার বছরের লালিত মূল্যবোধের সৌন্দর্য।
লেখক: মাহাফুজ কাজী রিজু
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি



