প্রাসাদ, ব্যক্তিগত দ্বীপ ও শত শত গাড়ি—কেমন বিলাসী জীবন কিম জং উনের?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
কার্ল মার্ক্স যে ‘শ্রমিকের স্বর্গের’ স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেখানে ব্যক্তিগত দ্বীপ, একের পর এক প্রাসাদ কিংবা হাজারো নারীর ব্যক্তিগত হারেম—এসব নিশ্চয়ই কল্পনায় ছিল না। অথচ উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের জীবনযাপন নিয়ে প্রকাশিত নানা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই বিলাসবহুল এক জগতের ছবি।
অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরেই খাদ্যসংকট, দারিদ্র্য ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে জীবনযাপন করছে। এই বৈপরীত্যই কিমের জীবনযাপনকে ঘিরে বিশ্ববাসীর আগ্রহের অন্যতম কারণ।
কিম ২০১১ সালে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর থেকেই তার বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে নানা তথ্য সামনে এসেছে। তার সম্পদের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন অনুমান রয়েছে; কিছু প্রতিবেদনে তা কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বলা হয়েছে। বিলাসবহুল গাড়ি, প্রাসাদ, দামি ঘড়ি, বিদেশি খাবার, মদ, ব্যক্তিগত বিমান ও ইয়ট—তার জীবনযাপনের সঙ্গে এসবের নাম জড়িয়ে আছে।
পরমাণু হামলা ঠেকানোর মতো প্রাসাদ, সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বীপ
জনসমক্ষে না থাকলে কিমের হাতে রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল আবাসন—এমন দাবি বহু বছর ধরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়াজুড়ে কিমের প্রায় ১৭টি প্রাসাদ বা বিলাসবহুল আবাসন রয়েছে। এর মধ্যে ওয়নসানে একটি প্রাসাদের নিজস্ব প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তার প্রধান আবাসনগুলোর একটি রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের ‘সেন্ট্রাল লাক্সারি ম্যানশন’। এটিকে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বলে বর্ণনা করা হয়। সেখানে একাধিক সামরিক ইউনিট, বৈদ্যুতিক বেড়া ও মাইনফিল্ড থাকার দাবি রয়েছে। এমনকি প্রাসাদের নিচে একটি নিজস্ব রেলস্টেশন এবং অন্যান্য সম্পত্তির সঙ্গে সংযোগকারী টানেল থাকার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে বিশাল প্রাসাদই কিমের বিলাসিতার শেষ নয়। অবসর কাটানোর জন্য তার একটি ব্যক্তিগত দ্বীপ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
কিমের ‘নিজস্ব ইবিজা’
কিমের সঙ্গে ‘অদ্ভুত’ বন্ধুত্বের কারণে পরিচিত সাবেক এনবিএ তারকা ডেনিস রডম্যান ২০১৩ সালে ওই দ্বীপে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন।
রডম্যানের বর্ণনা অনুযায়ী, দ্বীপটি অনেকটা হাওয়াই বা ইবিজার মতো। সেখানে কিমের আশপাশে সবসময় ৫০ থেকে ৬০ জন মানুষ থাকেন, যারা সময় কাটান, পানীয় পান করেন এবং আনন্দ করেন।
রডম্যান দ্বীপটির পরিবেশকে অত্যন্ত বিলাসবহুল হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে পানীয় থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস—সবকিছুই ছিল উন্নতমানের।
সাঁজোয়া বিমান, ট্রেন আর বিলাসবহুল গাড়ি
কিমের ভ্রমণব্যবস্থাও সাধারণ কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের মতো নয়। তার রয়েছে বিলাসবহুল বিমান, সাঁজোয়া গাড়ি এবং বিশেষভাবে সুরক্ষিত ট্রেন।
রডম্যান কিমের ব্যক্তিগত ইয়টও দেখেছিলেন বলে দাবি করা হয়। প্রায় ৯৫ ফুট দীর্ঘ এই ইয়টকে তিনি ফেরি ও ডিজনি ক্রুজের মাঝামাঝি ধরনের বলে বর্ণনা করেছিলেন। এটি ব্রিটিশ নকশার প্রিন্সেস ৯৫ এমওয়াই ইয়ট বলে ধারণা করা হয়, যার দাম প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শোবার কক্ষ, প্রশস্ত ডেক এবং প্রায় ১০ জনের জন্য খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।

বিমানে ভ্রমণের সময় কিম ব্যবহার করেন এয়ার ফোর্স ইউএন নামে পরিচিত একটি বিলাসবহুল রুশ আইএল-৬২ বিমান। এটির মূল্য কয়েক মিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হয়। এমনকি কিম নিজেই মাঝে মাঝে বিমানের নিয়ন্ত্রণ হাতে নেন—এমন কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে তার কোনো পাইলট লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
সুরক্ষিত ট্রেনেও বিলাসিতা
উত্তর কোরিয়ার নেতাদের মধ্যে সাঁজোয়া ট্রেনে ভ্রমণের প্রচলন ছিল। কিমের বাবা কিম জং ইলও বিলাসবহুল ট্রেনে ভ্রমণ করতেন এবং ২০১১ সালে ওই ট্রেনেই তার মৃত্যু হয় বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছিল।
তার ট্রেনে প্রায় ৯০টি বগি ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শোবার কক্ষ, বৈঠকের কক্ষ এবং বিদেশি বিলাসবহুল আসবাব ছিল।

কিম জং উনের ট্রেনেও একই ধরনের বিলাসবহুল ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা যায়। এমনকি তার প্রায় ১০ লাখ ডলার মূল্যের মার্সিডিজ-মেবাখ পুলম্যান গার্ড সাঁজোয়া গাড়িও ট্রেনে বহন করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এটি কিমের বিশাল গাড়িবহরের মাত্র একটি অংশ। তার সংগ্রহে মূলত ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের শতাধিক বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘প্লেজার স্কোয়াড’ নিয়ে বিতর্কিত দাবি
কিমের ট্রেনের কর্মীদের মধ্যে নারী কর্মী থাকার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তাদের কেউ কেউ তথাকথিত ‘প্লেজার স্কোয়াড’ বা ‘গিপুমজো’-এর সদস্য—এমন দাবি করা হয়েছে।
কিছু প্রতিবেদনে এই গোষ্ঠীতে প্রায় ২ হাজার নারী থাকার কথা বলা হয় এবং তাদের যৌনসহ বিভিন্ন ধরনের বিনোদন দেওয়ার জন্য বাছাই করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এই দাবিগুলোর অনেকটাই উত্তর কোরিয়ার বাইরে থাকা সূত্র ও সাবেক উত্তর কোরীয় নাগরিকদের বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এসব তথ্যের সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দামি ঘড়ি, বিদেশি মদ আর বিলাসী খাবার
কিমের বিলাসিতার তালিকায় রয়েছে দামি ঘড়িও। তার ঘড়ির সংগ্রহের মূল্য ৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে।
২০১৯ সালে একটি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় কিমকে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড মূল্যের আইডব্লিউসি পোর্তোফিনো অটোমেটিক সুইস ঘড়ি পরা অবস্থায় দেখা যায় বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
খাবারের ক্ষেত্রেও কিমের পছন্দ বেশ বিলাসবহুল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফোয়া গ্রা, লবস্টার ও ক্যাভিয়ার তার পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

বিদেশ সফরে গেলেও তার নিজস্ব শেফদের একটি দল সঙ্গে থাকে বলে এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তার খাবার পরিবেশনের আগে শেফরা দীর্ঘ সময় ধরে তা পরীক্ষা করেন, যাতে খাবারে বিষ মেশানো হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
পানীয়ের ক্ষেত্রেও কিমের পছন্দ বিলাসবহুল। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার বোতল হুইস্কি আমদানি করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এমনকি দামি পানীয়ের পেছনে বছরে প্রায় ২১ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত ব্যয় হয় বলেও কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে হেনেসি-র মতো ব্র্যান্ডও রয়েছে, যার একটি বোতলের দাম প্রায় ১,৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত হয়ে থাকে।

সিগারেটের ক্ষেত্রেও কিমের পছন্দ সাধারণ নয়। তিনি ইভ সাঁ লোরাঁ-এর মতো ফরাসি বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের সিগারেট পান করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এক প্যাকেটের দাম প্রায় ৩১ পাউন্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্তর্বাসেও কোটি টাকার খরচ?
কিমের বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে সবচেয়ে চমকপ্রদ দাবিগুলোর একটি হলো তার ব্যক্তিগত নারীসঙ্গীদের জন্য ব্যয়।
কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালেই প্রায় ২.৭ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে চীন থেকে বিলাসবহুল অন্তর্বাস—যার মধ্যে করসেট ও সাসপেন্ডারও ছিল—আমদানি করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়ার বিলাসপণ্য আমদানি সীমিত থাকার কথা। তারপরও ২০১৭ সালে বাদ্যযন্ত্র, মদ ও এমনকি একটি সি-প্লেনসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ বা বিলাসবহুল পণ্য আমদানিতে কিমের সরকার প্রায় ৪৯৩ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে বলে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল।
বাস্কেটবল থেকে ঘোড়দৌড়
কিমের ব্যক্তিগত আগ্রহের তালিকায় বাস্কেটবলও রয়েছে। সুইজারল্যান্ডে স্কুলজীবনে থাকার সময় তার ঘরের দেয়ালে মাইকেল জর্ডান ও শিকাগো বুলস-এর পোস্টার ছিল বলে জানা যায়।
২০১৩ সালে বিখ্যাত হার্লেম গ্লোবট্রটার্স দলের তিন সদস্য উত্তর কোরিয়ায় গিয়ে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলেছিলেন। সেই সফরেই ডেনিস রডম্যানের সঙ্গে কিমের ঘনিষ্ঠতা আরও আলোচনায় আসে।
বাস্কেটবলের পাশাপাশি কিমের ঘোড়ার প্রতিও আগ্রহ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রুশ কাস্টমসের তথ্য উদ্ধৃত করে কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ১৩৮টি খাঁটি জাতের ঘোড়া কিনতে অন্তত ৫৮৪,৩০২ ডলার খরচ করা হয়েছিল।
উত্তর কোরিয়ার সরকারি প্রচারচিত্রেও কিমকে প্রায়ই তুষারে ঢাকা পাহাড়ে সাদা ঘোড়ায় চড়ে থাকতে দেখা যায়। এসব ছবি তার নেতৃত্বের শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
পাহাড়ে বিলাসবহুল স্কি রিসোর্ট
কিমের বিলাসী জীবনযাপন শুধু ব্যক্তিগত সম্পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উত্তর কোরিয়ার পাহাড়ি এলাকায় বিলাসবহুল স্কি রিসোর্ট গড়ে তোলার উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি।
এর মধ্যে অন্যতম মাসিকরিয়ং স্কি রিসোর্ট। ২০১৩ সালে চালু হওয়া এই রিসোর্ট নির্মাণে প্রায় ২১ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এক বছরেরও কম সময়ে এর নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছিল।

রিসোর্টটিতে অস্ট্রিয়া থেকে কেনা প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো একটি স্কি লিফট ব্যবহার করা হয়, যা চীনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ায় সরবরাহ করা হয়েছিল।
তবে এই রিসোর্টকে ঘিরেও বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল, এটি নির্মাণ ও পরিচালনার কাজে ১১ বছর বয়সি শিশুসহ অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহার করা হয়েছে।
একদিকে বিলাসিতা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের সংকট
কিম জং উনের জীবনযাপন নিয়ে প্রকাশিত এসব তথ্যের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য দেখা যায় উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ও সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যসংকট, দারিদ্র্য এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবের মুখোমুখি। একই সময়ে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত বিলাসবহুল গাড়ি, প্রাসাদ, বিদেশি খাবার, দামি মদ, ঘড়ি ও বিনোদনকেন্দ্রের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।

তবে কিমের ব্যক্তিগত সম্পদ, প্রাসাদের সংখ্যা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা চমকপ্রদ দাবির ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—উত্তর কোরিয়া অত্যন্ত গোপনীয় রাষ্ট্র হওয়ায় এসব তথ্যের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। ফলে কিমের জীবনযাপন নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের কিছু অংশ প্রত্যক্ষ প্রমাণের বদলে গোয়েন্দা মূল্যায়ন, সাবেক উত্তর কোরীয় নাগরিকদের বক্তব্য, স্যাটেলাইট ছবি এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল।
তারপরও যেসব তথ্য ও ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে স্পষ্ট যে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতৃত্বের জীবনযাত্রা দেশটির সাধারণ মানুষের বাস্তবতার তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগতের ছবি তুলে ধরে।
সূত্র: দ্য সান



