একা নই, একান্ত
বসন্তের দিনে নিজের সঙ্গেই প্রেম হোক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
ফাগুনের দখিনা হাওয়া জানালায় নক করে, কৃষ্ণচূড়া আর শিমুলের লাল রঙ শহরকে রাঙিয়ে তোলে। চারদিকে জোড়ায় জোড়ায় মানুষের ভিড় দেখে যদি আপনার মন একটু নিঃশব্দ হয়ে যায়, তাহলে থামুন। মনে মনে আওড়ে নিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর সেই উচ্চারণ, ‘আমার মুক্তি সর্বজনের মনের মাঝে…’। ভালোবাসা কি কেবল হাত ধরাধরি? নাকি নিজের ভেতরের আকাশে নিজেরই নাম লেখা?
এই ভালোবাসা দিবসে আপনি যদি ‘সিঙ্গেল’ হন, জেনে রাখুন, দিনটি আপনারই। কারণ সবচেয়ে দীর্ঘ, সবচেয়ে গভীর প্রেম শুরু হয় আয়নার ওপারের মানুষের সঙ্গে।
অন্য কারও ফুলের অপেক্ষা কেন? নিজেই নিজের জন্য কিনে ফেলুন একগুচ্ছ লাল গোলাপ কিংবা রজনীগন্ধা। প্রিয় কোনো বই, একটি পোশাক, অথবা বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত ছোট্ট শৌখিন জিনিসটি নিজেকে উপহার দিন। আত্মতুষ্টির হাসি নিঃশব্দ হলেও দীপ্ত।
একটি বই হতে পারে অসাধারণ সঙ্গী। প্রিয় কোনো ক্যাফেতে বসে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপের পাশে খুলে ফেলুন উপন্যাসের পাতা। মানুষের আনাগোনার ভিড়ে বসেও নিজের ভেতরে ডুবে থাকার যে আনন্দ, তা আলাদা এক নীল আকাশ।
ঘরে লুকিয়ে থাকার দরকার নেই। সবচেয়ে পছন্দের পোশাকটি পরুন, হালকা সুগন্ধি মেখে বেরিয়ে পড়ুন। নিজের প্রিয় রেস্তোরাঁয় গিয়ে অর্ডার করুন সেই খাবার, যা আপনি সবচেয়ে ভালোবাসেন। একা খাওয়ার মধ্যে এক ধরনের স্বনির্ভর আভিজাত্য আছে, যেন নিজের জন্য সাজানো একটি টেবিল। চাইলে পরিবার বা বন্ধুকেও সঙ্গে নিতে পারেন, ভালোবাসা তো শুধু রোমান্টিক পরিসরে আটকে থাকে না।
শহরের শব্দ যদি বিরক্ত করে, কোনো পার্ক বা লেকের ধারে বসে থাকুন। ঘাসের ওপর ছোট্ট পিকনিক, প্রিয় কোনো ডেজার্ট, আর আকাশভরা আলো। প্রকৃতির সান্নিধ্যে শরীর সেরোটোনিন নিঃসরণ করে, মন পায় প্রশান্তির পরশ। ভবঘুরে মন হলে ছোট্ট ভ্রমণেও বেরিয়ে যেতে পারেন, অচেনা অলিগলি বা কোনো জাদুঘর আপনাকে নতুন গল্প শোনাতে পারে।
নতুন কিছু শেখার দিনও হতে পারে আজ। ছবি আঁকা, রান্না, কিংবা নতুন ভাষার প্রথম অক্ষর শেখা। নিজের দক্ষতার ঝুলিতে নতুন পালক যোগ করা মানে নিজের সম্ভাবনাকে আলতো করে জাগিয়ে তোলা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের ‘পারফেক্ট’ ছবির ভিড়ে নিজেকে ছোট করে দেখবেন না। আজ ফোনটিকে একটু বিশ্রাম দিন। ভার্চুয়াল প্রদর্শনের বদলে বাস্তব যত্ন নিন। ঘরে বসে স্পা করতে পারেন, কিংবা পারলারে গিয়ে নিজেকে একটু সময় দিন।
আপনি একা নন। আপনার মতো আরও অনেকে আছেন, যারা নিজের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, কিংবা কোনো অনাথ আশ্রমে গিয়ে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানোও হতে পারে দিনটির অন্যরকম উদ্যাপন। নির্মল হাসির যে দীপ্তি, তা কোনো সাজানো ডিনারের আলোয় মেলে না।
মনে রাখবেন, মেকি সম্পর্কে আটকে থাকার চেয়ে নিজের স্বাধীনতায় দাঁড়িয়ে থাকা অনেক বেশি সম্মানের। একাকিত্ব দুর্বলতা নয়, এটি নিজেকে জানার শক্তি। ভালোবাসা দিবস মানেই যুগলবন্দী নয়, এটি হৃদয়ের বসন্ত।
তাই এই ফাগুনে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে বলুন, আমি আমাতেই পরিপূর্ণ। পৃথিবী তখন আপনার ভেতরেই ফুটে উঠবে, রঙিন, উজ্জ্বল, একান্ত। সূত্র: মিডিয়াম, সাইকোলজি টুডে



