নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে লঘুচাপ, সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আভাস
যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকলে আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তবে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে প্রথমে গভীর নিম্নচাপ এবং পরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম হতে পারে ‘অর্ণব’, যা বাংলাদেশের প্রস্তাব করা নাম। ‘অর্ণব’ শব্দের অর্থ সমুদ্র। তবে আরব সাগরে অবস্থানরত অন্য কোনো আবহাওয়া ব্যবস্থা আগে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে সেই ক্ষেত্রে নামটি ব্যবহার করা হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বর্তমানে এটি সরাসরি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। এছাড়া ২৯ অক্টোবর থেকে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) আওতাভুক্ত ১৩টি দেশ বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নাম প্রস্তাব করে থাকে। পর্যায়ক্রমে সেই নামগুলো ব্যবহার করা হয়। সম্ভাব্য ‘অর্ণব’-এর পরবর্তী নাম হিসেবে তালিকায় রয়েছে ভারতের প্রস্তাবিত ‘মুরাসু’, যার অর্থ ঐতিহ্যবাহী ঢোল বা ডঙ্কা।



