আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ নেই: তথ্য উপদেষ্টা
যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ এখনো কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। বরং দেশে-বিদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় দলটির সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা পুনর্মিলনের সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, গণহত্যার অভিযোগের পরও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আত্মসমালোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং বিদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের হেনস্তা এবং দেশে সহিংসতা ও অস্থিরতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি আরও জানান, অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ড. ইউনূসকে ঘিরে অভিযোগের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুনরাবৃত্তি হলে তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগের কেউ ক্ষমা চাইলে ভবিষ্যতে সমঝোতার সুযোগ তৈরি হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের আলোচনা সম্পূর্ণ অবাস্তব। তার ভাষায়, গণহত্যার অভিযোগের পরও দলটির নেতাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, সহিংসতার উসকানি ও সংগঠিত তৎপরতা সরকারের নজরে রয়েছে। ফলে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরলেও সরকারের কোনো আপত্তি নেই। সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের মুখোমুখি হতে হবে।
ব্রিফিংয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপসাংবাদিকতা রোধে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আইন সংস্কার ও আধুনিকায়নের চলমান উদ্যোগ সম্পর্কেও তথ্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা এবং তথ্য অধিদপ্তরের সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মোছা. মোবাস্বেরা কাদেরী উপস্থিত ছিলেন।



